পরীক্ষা চালু রাখার দাবিতে আবারও নীলক্ষেত মোড়ে শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষা চালু রাখার দাবিতে আবারও নীলক্ষেত মোড়ে শিক্ষার্থীরা
নীলক্ষেত মোড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: ইত্তেফাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের চলমান পরীক্ষাগুলো অব্যাহত রাখতে আন্দোলন শুরু করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষিত সাত কলেজের চলমান পরীক্ষাগুলোর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা। আজ বুধবার সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবি মেনে নিয়ে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পরীক্ষা চলছিলো। সকাল ৯টায় আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো। আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার টেবিলে আমরা শুনি পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এ ধরনের ঘোষণায় আমরা বিপাকে পড়ে গিয়েছি। আমাদের অনেকেই পরীক্ষার চলবে এমন ঘোষণায় বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় আসার পর তাদের বাসা নেওয়া, ফরম ফিলআপ এবং ভর্তি হওয়া পর্যন্ত বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

আন্দোলনের মধ্যে অনশনে বসেছেন সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক। তিনি স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ আমাদেরকে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। আমাদের মাত্র একটি পরীক্ষা ছিল কিন্তু তার সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেল। ফলে আমরা একটা দীর্ঘদিনের সংকটে পড়তে যাচ্ছি। উপাচার্য স্যার যদি আমাদের জন্য সিদ্ধান্ত বিবেচনা না করেন তবে আমরা আমাদের অনশন চালিয়ে যাব এবং আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

সেশনজটে পড়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমনিতে সেশনজটে পড়েছি। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে না, ক্যাম্পাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে, এটা যৌক্তিক কোন বিষয় না। করোনাকালীন সময়ে সবকিছু চলছে, শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না, এক দফা এক দাবি পরীক্ষা নিতে হবে, নিতে হবে নিতে হবে চলমান পরীক্ষা নিতে হবে একে একে সব স্লোগান দিতে থাকেন।

সকাল ৯টায় আন্দোলন শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অল্পসংখ্যক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। একে একে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে আসতে থাকে নীলক্ষেত মোড়ে।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের বৈঠক হয়। বৈঠকে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। এরপরেই শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, অধিভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন। তারা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবেন। রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কটি ছেড়ে দিতে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি ইমিডিয়েটলি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানাতে। আমরাও মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের সরে যেতে অনুরোধ করেছি।

তিনি জানান, নীলক্ষেত মোড়টি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দীর্ঘ সময় মোড়টি বন্ধ হয়ে থাকায় পুরো রাজধানীতে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের জনদুর্ভোগও বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা যদি না উঠে প্রয়োজনে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শক্তি প্রয়োগ করে সরিয়ে দেবো।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x