বিডিআরে শহিদ পরিবারের সবাইকে জমি ও ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি

বিডিআরে শহিদ পরিবারের সবাইকে জমি ও ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি
শহিদ কর্নেল মো. মজিবুল হক।ফাইল ছবি

শহিদ কর্নেল মো. মজিবুল হক ছিলেন বিডিআরের ঢাকা সেক্টরের কমান্ডার। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সদর দপ্তরের দরবার হলে বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সঙ্গে কর্নেল মো. মজিবুল হকও নিহত হন।

বিভীষিকাময় এ ঘটনার ১২ বছর পর গতকাল শহিদ কর্নেল মো. মজিবুল হকের স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, শহিদ পরিবার হিসেবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা কোনো পরিবারকে দেওয়া হয়নি। শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের জমি ও ফ্ল্যাট ছিল না, শুধু তাদের দুটি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা ১০ থেকে ১১টি পরিবার। একই সংখ্যক শহিদ পরিবারকে প্লট দেওয়া হয়েছে, যাদের জমি ছিল না। কিন্তু আগে থেকে যাদের জমি ছিল, তাদের কাউকে শহিদ পরিবার হিসেবে কোনো জমি বা ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় যে কোনো ডিফেন্স কর্মকর্তা মারা গেলে সহযোগিতা হিসেবে প্রত্যেককে ৮ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে শহিদ পরিবারের সন্তানদের পড়াশুনার খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এটা ১০ বছর ধরে দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী দুই বছর আগেই এটা প্রদানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মৃত্যুকালীন পেনশনও দেওয়া হয়ে গেছে।

শহিদ পরিবার হিসেবে প্রত্যেককে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় সার্ভিসের পর ঐ কর্মকর্তা জমি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে শহিদ কর্নেল মুজিব মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় একটা প্লট অন্য তিন জনের সঙ্গে মালিকানায় পান। ১৯৯৩ সালে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ঐ প্লটে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ হলে ঐ বাড়ির দুইটি ফ্ল্যাটের মালিকানা পান। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পর তিনি অন্য ভাবিদের সঙ্গে ন্যাম ফ্ল্যাটে ওঠেন। ছয় বছর পর তিনি ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর মহাখালীর ডিওএইচএসে নিজেদের ফ্ল্যাটে ওঠেন। এখন আরেকটি ফ্ল্যাটের ভাড়া ও পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চলছে।

কর্নেল মো. মজিবুল হক ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কমিশন লাভ করেন। চাকরি জীবনে তিনি ১, ৮ ও ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, ৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, এসএমআই, ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও বিডিআরে বিভিন্ন নিযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে কর্নেল জেনারেল স্টাফ ও ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসে মিনিস্টার (কনস্যুলার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি জর্জিয়ায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষে তিনি ২০০৯ সালে বিডিআরে সেক্টর কমান্ডার (ঢাকা) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসী, দুই পুত্র মুহিব হক ও নাদীত হক এবং কন্যা তেহরিম মুজিবকে রেখে গেছেন।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x