এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কমছে না কিউলেক্স

ব্যবস্থা না নিলে মার্চে ঘনত্ব চরমে পৌঁছাবে, কীটনাশকে সহনশীলতা বেড়েছে মশার, দাবি বিশেষজ্ঞদের
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কমছে না কিউলেক্স
কিউলেক্স মশা। ছবি: ইত্তেফাক

রাজধানীর প্রত্যেক এলাকায় বেড়েছে মশার উপদ্রব। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাড়ছে কিউলেক্স মশা। নভেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত এর উত্পাত থাকে বেশি। শীত কমলেও কমেনি এর উপদ্রব। বরং দিন দিন বেড়েই চলছে মশা। গত বছরের তুলনায় এই সময় বর্তমানে মশার ঘনত্ব বেড়েছে চার গুণ।

আর মশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত মশার ঘনত্ব বেড়ে চরমে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এমন তথ্য ওঠে এসেছে। গবেষণাটির পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, প্রতি মাসেই মশার ঘনত্ব কেমন হচ্ছে তা দেখার জন্য এই গবেষণাটি চালিয়েছেন তিনি। কবিরুল বাশার বলেন, ফেব্রুয়ারিতে তিনি মশার ঘনত্ব অন্য সময়ের চেয়ে চারগুণ বেশি পেয়েছেন। ছয়টি স্থানের গড় ঘনত্ব প্রতি ডিপে (মশার ঘনত্ব বের করার পরিমাপক) আমরা মশা পেয়েছি ৬০টিরও বেশি। যেখানে আমরা অন্যান্য সময় পাই ১৫-২০টি।’ মশার ঘনত্ব কেমন বেড়েছে সেটি জানতে ঢাকার উত্তরা, খিলগাঁও, শনিরআখড়া, শাঁখারিবাজার, মোহাম্মদপুর ও পরীবাগসহ ছয়টি এলাকার নমুনা নিয়ে তারা এ গবেষণা চালিয়েছেন।

এদিকে দিনের বেলাও মশার যন্ত্রণায় বাসাবাড়িতে অবস্থান করা যায় না বলে অভিযোগ বিভিন্ন এলাকার মানুষের। এয়ারপোর্টের আশকোনা এলাকার বাসিন্দা লাওহে মাহফুজ জানান, সন্ধ্যার আগেই বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করতে হয়। তারপরও মশার কামড় থেকে রক্ষা নেই। মশা মারতে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয় সব সময়। তারপরেও মশার কামড় থেকে নিস্তার পাচ্ছি না। শুধু আশকোনা নয় উত্তরা, খিলক্ষেত, নিকেতন, গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, ধানমন্ডি, গুলিস্তান, হাতিরঝিলসহ সব এলাকার মশার পরিস্থিতি প্রায় একই। কিউলেক্স মশার প্রকোপে অতিষ্ঠ নগরবাসী।

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার জানান, এই সময় নর্দমা, ড্রেন, ডোবা, বিল ঝিলে পানি পঁচে যায়। যার কারণে পানির প্রবাহ নেই। আবার বৃষ্টিও হচ্ছে না। যার কারণে মশার জন্মানোর হার বেড়ে গেছে। এছাড়া শীত শেষ হয়ে গরম শুরু হয়েছে। যার কারণে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। সে কারণে ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়। এই সময় যে মশা দেখা যায় এগুলোর প্রায় ৯৯ ভাগই কিউলেক্স মশা। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো কীটনাশক একটানা পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহার করা হলে মশা সেই কীটনাশকের বিপক্ষে সহনশীলতা তৈরি করে। আর এজন্যই মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতি পাঁচ বছর পর পর কীটনাশক পরিবর্তন করা দরকার। তিনি আরো বলেন, মশা নিধনে প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা দরকার।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, ‘মশার ওষুধ বা কীটনাশকের মান যাতে ঠিক থাকে সেজন্য আমরা বারবার পরীক্ষা করাই। আর দীর্ঘদিন যদি কোনো কীটনাশক বার বার ব্যবহার করা হয়, তখন তাতে মশক সহনশীল হয়ে যায়। এছাড়াও, এডিসের জন্য যে কীটনাশকের প্রয়োগে সুফল পাওয়া যায়, কিউলেক্স মশার জন্য তা কার্যকর হয় না। সেজন্য আমরা কীটনাশক পরিবর্তন করছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কীটনাশক চলে আসবে। সেটা আমরা কিউলেক্স মশার জন্য ব্যবহার করব। সুতরাং কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ার যে অভিযোগ আসছে, সেটারও নিরসন হবে। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবাইদুর রহমান বলেন, ‘মশা নিধনে কীটনাশক কাজ করছে না এ বিষয় আমি মানতে রাজি নই। কারণ আমাদের মশার ওষুধ বিভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে তার পর আমরা প্রয়োগ করি। আমাদের কর্মীরা নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। আর এরই মধ্যে কিউলেক্স মশা দমনে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। যা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

ইত্তেফাক/এসসিএস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x