চিম্বুক পাহাড়ে হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে রাজধানীতে সংহতি সমাবেশ

চিম্বুক পাহাড়ে হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে রাজধানীতে সংহতি সমাবেশ
পাহাড়ে হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে রাজধানীতে সংহতি সমাবেশ। ছবি: আব্দুল গনি।

বান্দরবনের নাইতং পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংহতি সমাবেশ করে তারা। সংহতি সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে যায় তারা।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘এক সময় আমরা নিজেদের জন্য রক্ত দিয়েছি। এখন তারা তাদের নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে সেটা কেন হতে দেওয়া হবে না? এই উচ্ছেদ স্বাধীনতা, সংবিধান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পরিপন্থী।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের বনে যদি এভাবে রিসোর্ট হতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা প্রাকৃতির বৈচিত্র্য নাকি শুধু রিসোর্ট রেখে যাব সেটা চিন্তা করতে হবে। বান্দরবানে ইকো রিসোর্ট করার প্রয়োজন নেই, বান্দরবান নিজেই ইকো রিসোর্ট।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘ম্রোদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে এটি অন্যায়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪টি ভাষা ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে খুবই খারাপ হবে।’

এ সময় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি জেলার দক্ষিণ-পূর্বে চিম্বুক-থানচি সড়ক সংলগ্ন ও সেপ্রু মৌজার কাপ্রুপাড়া, ডলাপাড়া ও এড়াপাড়া ঘেঁষে শুরু হয়েছে ম্যারিয়ট হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টেস নির্মাণ কাজ। এর কারণে আগামীতে উচ্ছেদ হবে ম্রো জনগোষ্ঠীর বসতভিটা, শ্মশান, পবিত্র পাথর, পবিত্র বৃক্ষ, পানির উৎস ইত্যাদি। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে প্রায় এক হাজার একরের অধিক জমি, যেখানে সরাসরি উৎখাত হবে ছয়টি গ্রাম, নিজ জীবিকা থেকে সরে যেতে হবে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে।

সমাবেশে চিম্বুক পাহাড়বাসীরা ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবিগুলো হলো,

১। ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, প্রাকৃতিক সম্পদে প্রথাগত অভিগম্যতা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ম্রো অধ্যুষিত এলাকা ম্যারিয়ট হোটেল ও বিনোদন পার্ক নামক প্রকল্পটি অবিলম্বে বাতিল করা,

২। পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক নিরাপত্তা বাহিনীকে যে ২০ একর জমি ইজারা প্রদান করা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করা,

৩। এ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল প্রকার সম্পৃক্ততা প্রত্যাহার করা,

৪। আন্দোলনরত জনগোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীর নামে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও নানা ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা,

৫। পরিবেশ ও প্রতিবেশীর প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী পর্যটনসহ উন্নয়নের নামে অবাধ ও পূর্বের সম্মতি ব্যতিরেকে অন্যান্য সকল প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করে অনুরূপ প্রক্রিয়ায় দখলকৃত সকল ভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করা।

সংহতি সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি দিতে যান আন্দোলনকারীরা।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x