নিয়ম ভেঙে নাগরিকত্ব সনদ দেন কাউন্সিলর

ফেসবুকে পোস্ট করায় ডিজিটাল আইনে মামলা, আটক ২
নিয়ম ভেঙে নাগরিকত্ব সনদ দেন কাউন্সিলর
প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)।

স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের এক জন সাধারণ কাউন্সিলর মৃত ব্যক্তির উত্তারাধিকার, জাতীয়তা ও চারিত্রিক সনদপত্র দিতে পারেন। কিন্তু সংরক্ষিত কাউন্সিলরের কার্যাবলিতে আইন অনুযায়ী সে ক্ষমতা সরক্ষিত কাউন্সিলরকে দেওয়া হয়নি।

এর পরেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইন অনুযায়ী তিনি সেটি না পারলেও সনদ দেওয়ায় জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে জটিলতা ও বিভ্রান্তি। যার কারণে সনদ নিয়ে জটিলতায় পড়া কিছু মানুষ জনগণকে সচেতন করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করেছেন ঐ কাউন্সিলর। আর সেই মামলায় ইতিমধ্যে দুই জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম নাগরিকত্ব সনদের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯, ৫০, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাকিয়া সুলতানার কাছে যান। পরে জাকিয়া সুলতানা তিনি তাকে নিয়ম সম্পর্কে না জানিয়ে নাগরিকত্ব সনদ দেন । অথচ আইন অনুযায়ী তিনি সেটি দিতে পারেন না। এটি শুধু সাধারণ কাউন্সিলরের কাছ থেকেই নেওয়া যায়। রাকিবুল সেটি জানতেন না। পরে তিনি যখন সেই সনদ নিয়ে জটিলতায় পড়েন, তখন রাকিবুল এ বিষয়ে থানায় একটি জিডিও করেন।

এছাড়া ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডি এম শামীমকেও বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। এর আগেও সংরক্ষিত কাউন্সিলর জাকিয়া সুলতানা নাগরিক সনদের পাশাপাশি ওয়ারিশ সনদপত্র ঐ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দিয়েছিলেন। যা নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন জটিলতাও দেখা দেয়। যার বেশ কিছু কপি এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। জাকিয়া সুলতানার এই বিষয়টি গত ২৫ জানুয়ারি একটি লিখিত চিঠি দিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামকেও অবহিত করেন ডি এম শামীম। পরে সেই চিঠি পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সচিবের কাছে পাঠান মেয়র। এর পরে তিনি নিয়মিত এমন নিয়মবহির্ভূত সনদ দেওয়া থেকে বিরত না হওয়ায় যারা তার কাছ থেকে সনদ নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, তারা ফেসবুকে সেটি পোস্ট করায় সেই কাউন্সিলর ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামুন সিরাজুল কাদের কানন, মিলন শেখ, জাহাঙ্গীর আলম ও মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় ডিজিটাল আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলায় পুলিশ মামুন সিরাজুল কাদের কানন, মিলন শেখকে গতকাল আটক করে বলে জানা যায়। যার কারণে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় সরকার আইনের গেজেট মেয়র সব কাউন্সিলরকে দিয়েছেন। সবাই আইন সম্পর্কে অবহিত আছেন। এর পরেও কেউ আইন ভঙ্গ করলে সেই দায়িত্ব ব্যক্তিকেই নিতে হবে। সেটি সিটি করপোরেশন নেবে না। এমন অভিযোগ করপোরেশন পেয়েছে কি না—সে বিষয়ে তিনি বলেন, এমন একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তারা এ বিষয়ে অবহিত আছেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর জাকিয়া সুলতানা ডিজিটাল আইনে মামলার বিষয়ে বলেন, ‘তারা আমার নামে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়েছে তাই মামলা করেছি।’ নিয়মবহির্ভূত সনদপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কাগজপত্র ঠিক থাকায় আমি তাদের সনদপত্র দিয়েছি। আইনে কোথাও উল্লেখ নেই যে সংরক্ষিত কাউন্সিলর এই সনদ তাদের দিতে পারবেন না। মামলার বিষয়ে দক্ষিণখান থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মামলাটি সাইবার সিকিউরিটি বিষয় হওয়ায় ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x