দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করেও অভাব কাটেনি কদবানুর

দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করেও অভাব কাটেনি কদবানুর
কদবানুর। ছবি: ইত্তেফাক

২২ বছর আগে রাজধানীর মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দিনে ১৪ ঘণ্টা কাজ করে বেতন পেতেন মাত্র ৮০০ টাকা। সেটা ছেড়ে শুরু করেন দর্জির কাজ। তাতেও অভাব ঘোচায়নি। সংসারে অভাব দূর না হওয়ায় কাজ শুরু করেন গৃহপরিচারিকা হিসেবে। গত দেড় যুগ ধরে এভাবে কঠোর পরিশ্রম করলেও কপালে সুখ মেলেনি।

আজ শনিবার (১লা মে) মেহনতি মানুষের বিশেষ এই দিনে কান্নাজনিত কণ্ঠে ইত্তেফাক অনলাইনকে কথাগুলো বলছিলেন কদবানু। স্বামী ও ছেলে-মেয়েসহ তাদের ৪জনের অভাবের সংসার। থাকেন রাজধানীর রায়ের বাজার ভাড়া করা ছোট একটি বাসায়।

কদবানু বলেন, ১২ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর একই বছর স্বামীসহ ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে কাজ শুরু করি খুব অল্প বেতনে। রাতে বাসায় এসে দর্জির কাজ শুরু করি। আমার স্বামী সালাউদ্দিন দিনের বেলার লেবার হিসেবে নানান কাজ করতো। দীর্ঘদিন একই পেশায় থাকার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছে আমার স্বামী। এখন কোন কাজ করতে পারে না। তখন থেকেই সংসার আমাকে একাই দেখাশুনা করতে হয়। একটি বাসায় সারাদিন কাজ করে মাস শেষে ৬ হাজার টাকা পাই। এরপর বাসায় এসে গভীর রাত পর্যন্ত দর্জির কাজ করি। এতে রাতদিন হিসেব করলে ১৬ ঘণ্টা কাজ করি। এখন করোনা জন্য কাজ নেই। দুই সন্তান এবং স্বামীকে নিয়ে খুব কষ্ট দিন কাটছে। খাবো কি, ঘর ভাড়া দিবো কি? চিন্তায় দিন কাটছে। এমনি অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। সামনে আরও ঋণ করতে হবে। কে জানে।

পরিশ্রমী এই নারীর কথায়, বড় মেয়ে সালমা আক্তার (১৮) বিয়ে হলো তিন বছর। বিয়ের প্রথম বছরই মেয়ে অসুস্থ হওয়ায় স্বামী ছেড়ে চলে যায়। এরপর তাদের তালাক হয়। এখন তাকে সম্পূর্ণ আমাকেই ভরণপোষণ করতে হচ্ছে। ছেলে সাহেদুর রহমান (১৩) একটি মাদ্রাসায় হাফেজী পড়ছেন করোনার জন্য তারাও লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। সংসারের যাবতীয় খরচ আমাকে জোগার করতে হয়। যে বাসায় রান্না করি যেখানে করোনার জন্য লোক কমে গেছে। এতে আমারও টাকার হিসেব কমে যাবে। স্বামী ও বড় মেয়ে অসুস্থ। তাদের দুইজনের প্রতিদিন ওষুধ লাগছে। মাস শেষ গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধা মাকেও টাকা পাঠাতে হয়। সব কিছু আমাকে একই ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অথচ এখন আমি না পারি কারো কাছে হাত বেড়াতে না পাচ্ছি ভালো কাজ করতে।

এভাবে অনেক কষ্ট বুকে ধরে খেটে-খাওয়া শ্রমজীবী নারী কদবানু বলেন, গতবছর লকডাউনেও কাজ হারিয়েছি। দীর্ঘদিন কাজ ছাড়া ছিলাম। লকডাউনে মেসের ছেলেরা বাসায় চলে গেলে আমারও কাজ চলে যায়। এবারও অনেকই মেস ছেড়ে চলে গেছে। যাইহোক মাস শেষ ৬ হাজার টাকা পেতাম। এবার সেটাও পাওয়ার সম্ভবনা নেই। অনেকেই মেস ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছে। এখন কাজ না থাকা একই কথা। সারাদিন কাজ করেও আমার সংসারের অভাব এখনো কাটেনি। আর এখন তো কাজই নেই।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x