যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে

অহেতুক চলাচল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে
সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এভাবে ভ্যানগাড়িতে গাদাগাদি করে গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন। ছবিটি বুধবার পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতু থেকে তোলা। ছবি: সোহেল রেজা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে যানবাহন ও মানুষের চলাচল। ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সচেতন নয় অনেকেই। দিন গড়ানোর সঙ্গে অনেকটাই ঢিলেঢালাভাবে চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ। চলমান কঠোর বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিন বুধবার রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল আগের দিনগুলোর চেয়ে বেড়েছে। সকাল থেকে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, রিকশা, ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এতদিন চোখে না পড়লেও এখন মাঝেমধ্যে মহাসড়কে দেখা মিলছে বাসেরও।

গতকাল সকালে যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছেন, আবার কেউ কাঁচাবাজারে ঘোরাঘুরি করছেন। যাত্রাবাড়ীর এই মহাসড়ক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতাও ঢিলেঢালা। শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা চেকপোস্টগুলোতে তাদের সেভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি। রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে রাইডারদের মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি হেঁটে চলাচল করছে মানুষ। অধিকাংশের মুখেই মাস্ক নেই। বিজয়নগর, ফকিরাপুল, নয়া পল্টন, শাহজাহানপুর, আরামবাগ, ডিআইটি অ্যাভিনিউ ঘুরে দেখা গেছে, বড় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও, অলিগলিতে দোকান খোলা।

রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জাবেদ মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের পাইকারি মুদি দোকান। দোকান খোলা। প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে দোকানে যেতে হয়। ভ্যানে করে যাই, ৫০ টাকা ভাড়া নেয়। পথে পুলিশ আটকে দেওয়ায় কয়েকবার নেমেও গেছি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা বলছেন, সড়কে লোকজন ও যানবাহনের চাপ এতটাই যে সবাইকে ধরে ধরে বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

যাত্রাবাড়ী মোড়ে ভ্যানগাড়ি, রিকশা ও প্রাইভেট কারে শত শত মানুষকে চলাচল করতে দেখা গেছে। আবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী মোড়ে সিটি করপোরেশনের গোল চত্বরে শত শত মানুষ বসে গল্প, আড্ডায় বসেন। এখানে তত্পরতা দেখা যায়নি পুলিশের।

সরেজমিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মতিঝিল, পল্টন, প্রেসক্লাব, বাংলামোটর, কাওরান বাজার এলাকায় দেখা যায়, অন্যদিনের তুলনায় মানুষের সমাগম অনেকটা বেড়েছে। কিছু এলাকায় দোকানপাট চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসলে দোকানের শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে বিধিনিষেধ আরোপ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। এরপর আবার গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার।

অভিনব পদ্ধতিতে ঘুরে বেড়ানো

কঠোর বিধিনিষেধের ভেতরে অভিনব পদ্ধতিতে রাজধানীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। তিন-চার জন মিলে গাড়ি ভাড়া করছেন। ব্যাংক চেকসহ নানা নথি থাকছে তাদের কাছে। তবে, জরুরি প্রয়োজনে বেরোনো নিম্ন আয়ের মানুষ আছেন কষ্টে। গণপরিবহন না থাকায় রিকশায় চড়তে গিয়ে কয়েক গুণ খরচ হচ্ছে তাদের।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x