বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি চলছেই

বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি চলছেই
ছবি: প্রতীকী

বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি চলছেই। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশে তাদের সহযোগীরা নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করছে। যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের আটক করে নির্যাতন, এমনকি গুলি করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছে বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহিম ও যুবরাজের তিন সহযোগী শাহজামান ওরফে সাবু, মো. দুলাল প্যাদা ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি টিম গত বুধবার চাঁদপুর ও রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় গুলি ভর্তি রিভলবার, পিস্তল ও ৩ হাজার পিস ইয়াবা।

অভিযান পরিচালনাকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় বসবাসকারী পানি ও সুয়ারেজ লাইন ঠিকাদার আরব আলী গত ১৫ মার্চ এলাকাবাসীর সংগৃহীত টাকায় সুয়ারেজ লাইন মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীরা আরব আলী ও নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে চাঁদা দাবি করে। আরব আলী টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়। এরপর গত ৩০ মার্চ দুপুর সোয়া ১টার দিকে আরব আলীকে তার বাসার সামনে গুলি করা হয়। উপস্থিত বুদ্ধিতে শুয়ে পড়ে কোনো রকমে নিজের জীবন রক্ষা করেন তিনি। তার ডান পা ও ঊরুতে গুলি লাগে। এ ঘটনায় ঐ দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের গুলশানের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমকে।

তদন্তকালে গোয়েন্দা পুলিশ প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, আশপাশের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও চিত্র, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং দীর্ঘদিন তদন্ত করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা পুলিশের গুলশানের এডিসি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি টিম চাঁদপুর ও শরীয়তপুর জেলার মধ্যবর্তী হাইমচর এলাকার মিয়াবাজার চরের দুর্গম এলাকা থেকে সাবুকে গ্রেফতার করে। পরে সাবুর দেওয়া তথ্যমতে, রাজধানীর পল্লবীর কালাপানি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন ও দুলালকে। গ্রেফতারকালে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার ও তিন হাজার পিস ইয়াবা।

এই কর্মকর্তা গ্রেফতারকৃতদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষসন্ত্রাসী ইব্রাহিম ও যুবরাজের তত্ত্বাবধানে থেকে ঢাকা মহানগরীর ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট ও পল্লবী থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট, বিতর্কিত জায়গা-জমির দখল-বেদখল, গ্যাস-পানির সুয়ারেজ লাইন তৈরি করার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করাসহ অন্যান্য কাজে ভয় দেখানো, কন্ট্রাক্ট কিলিং, কন্ট্রাক্ট শুটিং এবং সশস্ত্র মহড়া দিয়ে টাকা আদায়ের কাজ করত। শিষ্যদের দিয়ে ইয়াবা বিক্রি এবং ইয়াবা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করাও তাদের অর্থ উপার্জনের একটা অবৈধ পথ ছিল। মশিউর রহমান আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের অপর সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সম্প্রতি ঢাকার হাজারীবাগ ও পল্লবী এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে জমি দখল-বেদখল ও কন্ট্রাক্ট শুটারসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x