সবুজ বাগান ধ্বংস করে হবে টয়লেট-কাউন্টার!

সবুজ বাগান ধ্বংস করে হবে টয়লেট-কাউন্টার!
[ছবি: ইত্তেফাক]

চৌদ্দ বছর আগে গাবতলীতে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালে প্রায় তিনশ বাস কাউন্টারের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার ও আধুনিক টয়লেট। টার্মিনালে প্রবেশ মুখে ডান পার্শ্বে একটি বাগান রয়েছে। প্রায় ৩শ ফুট দৈর্ঘ্যে ও ৪৫ ফুট প্রস্থের বাগানটিতে প্রায় একশ বৃক্ষ রয়েছে। বাগানের আমড়া গাছে আমড়া ধরেছে। রয়েছে তেুঁতল, আম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নিম, মেহগনি, বাগান বিলাস, জামসহ নানা প্রজাতির গাছ। কোনো কোনো গাছের বয়স ১৪ বছরেরও বেশি। ক্লান্ত যাত্রীরা তপ্ত রোদ থেকে রক্ষা পেতে বাগানের গাছগুলোর ছায়ায় আশ্রয় নেন। আর টার্মিনালের সামনে প্রধান সড়ক থেকে দেখলে মনে হয় যে সবুজ গাছে ঘেরা বাস টার্মিনাল।

এই বাগানের গাছগুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গাছ কেটে সেখানে বাস কাউন্টার ও যাত্রীদের জন্য টয়লেট নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে বাগানটি টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। লকডাউন উঠে গেলে গাছগুলো কেটে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন গাবতলী বাস টার্মিনালের কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরী।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর গাবতলী বাস টার্মিনাল শামীম খানের মালিকানাধীন রাফি ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইজারা নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখায় একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে বাস টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট নেই। টয়লেট সংকটের কারণে প্রায়ই যাত্রীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এই চিঠির প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায় লকডাউনের কারণে টার্মিনালের সকল কাউন্টার বন্ধ। যাত্রী শূন্য টার্মিনালে দুই একটি কাউন্টারের লাইনম্যানরা পাহারা দিচ্ছেন। রহমত আলী নামে একজন কাউন্টারম্যান বলেন, শুনেছি বাগানে বাস কাউন্টার ও টয়লেট নির্মাণ করা হবে। এটা করা হলে টার্মিনালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। যাত্রীরাও কষ্ট পাবেন। বাগানের গাছগুলোর কারণে শীতল বাতাস বইয়ে যায় টার্মিনালে। আর টার্মিনালে ঢুকতে যদি একটি সবুজ বাগান চোখে পড়ে, তখন তার কাছে ভালও লাগে।’

জিকরুল নামে আরেকজন কাউন্টারম্যান বলেন, দেখেছেন বাগানের আমড়া গাছে আমড়া ধরেছে। তেঁতুল গাছে কাঁচা তেঁতুল ঝুলছে। এ বছর আম গাছ থেকে আমও পাওয়া গেছে। বাগান বিলাসের গোলাপী রঙের ফুল চোখ জুড়িয়ে যায়। এমন একটি বাগান ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে এর পরিবেশ নষ্ট হবে। আর একটি চক্র টয়লেটের পাশাপাশি কাউন্টার স্থাপন করবে। একেকটি কাউন্টার অলিখিতভাবে ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকায় হাত বদল হয়।

বর্তমান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২ লাখ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি চলছে। এছাড়া বাড়ির ছাদে বাগান তৈরির জন্য নগরবাসীকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মিজানুর রহমান বলেন, যাত্রীদের টয়লেট নির্মাণের কথা রয়েছে। টার্মিনালে প্রবেশমুখে হওয়ার কথা। কারণ টার্মিনালের প্রবেশ পথে যে বাগানটি আছে সেখানে পথচারীরা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন। এ কারণে টার্মিনালে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটা রোধ করতে আমরা সেখানে আধুনিক টয়লেট নির্মাণের সুপারিশ করেছি প্রকৌশল বিভাগের কাছে। তবে সেখানে বাস কাউন্টার নির্মাণ করা হবে না।

করোনার আতংকে দূরপাল্লার বাসে যাত্রী কমেছে 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম বলেন, টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য টয়লেট নির্মান করা হবে। তবে সেটি বাগানের গাছ কেটে নয়। আমরা একটি গাছও কাটতে চাই না। গাছ না কেটে যদি টয়লেট নির্মাণ করা যায়, তবে সেটি কার্যকর করা হবে। তা না হলে অন্যত্র টয়লেট স্থাপন করা হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাস টার্মিনালে প্রবেশের বাম পার্শ্বে রয়েছে পাবলিক টয়লেট। টার্মিনালের শেষ প্রান্তে (আমিনবাজারের দিক) রয়েছে আরো একটি পাবলিক টয়লেট। টার্মিনালের ভিতরে যাত্রীদের বিশ্রামাগারে রয়েছে আধুনিক টয়লেট। কিন্তু সব টয়লেটগুলো নোংরা। পরিষ্কার না করায় পুরো টার্মিনালে এক ধরনের বিশ্রি গন্ধ জুড়ে থাকে। টার্মিনাল ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও টয়লেটগুলো পরিষ্কার করা হয় না। টয়লেটগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলেই যাত্রীরা সুযোগ সুবিধা পাবেন।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x