কে এই পরীমণি- কিভাবে উঠে এলেন?

কে এই পরীমণি- কিভাবে উঠে এলেন?
পরীমণি। ফেসবুক থেকে নেওয়া।

বর্তমানের সমালোচিত নায়িকা পরীমণি উঠে আসার গল্প কী? কোথা থেকে এলেন? একে একে বের হয়ে আসছে তার জীবনের নানা কাহিনী। কে এই পরীমনি এবং কিভাবে শো বিজে তার আগমণ ও অল্প সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন, ফ্লপ সিনেমার নায়িকা হয়েও কিভাবে কোটি টাকার মালিক হলেন? এসব প্রশ্ন এখন চলচ্চিত্রাঙ্গণের লোকজনের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে।

‘ডানাকাটা পরী’র পিছে রয়েছে শামসুন্নাহার স্মৃতির গল্প। ১৯৯২ সালে নড়াইলে জন্ম নেওয়া স্মৃতি খুব ছোটবেলায় মা এবং পরে বাবাকে হারিয়ে বড় হন পিরোজপুরে নানার কাছে। সেখান থেকেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ২০১১ সালে আসেন ঢাকায়। নাচ শেখেন। পরে মডেলিং থেকে ছোট পর্দায় আবির্ভাব, টিভি নাটকে অভিনয়। শামসুন্নাহার নাম বদলে হয়ে ওঠেন পরী মণি। এরপর রূপালী পর্দায় আসা। শামসুন্নাহার স্মৃতি হয়ে উঠেন পরী মণি।

জানা যায়, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন পরীমণিকে নিয়ে কেউ তেমন উচ্চবাচ্য করেনি। তার অতীত ও বর্তমানের নানা কাহিনী জানা থাকলেও কেউ মুখ খোলেনি। তবে তাদের সবার এক কথা, পরীমণি যতটা না নায়িকা হতে পেরেছেন, তার চেয়ে বেশি প্রভাবশালী মহলে বিচরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের কথা অনুযায়ী, আজকের পরীমনি হয়ে উঠার পেছনের নানা চমকপ্রদ ঘটনা এখন প্রকাশিত হচ্ছে।

পরীমণির বাবার ছিল রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যবসা। তার বাড়ি যশোর হলেও ব্যবসায়িক কারণে তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসাভাড়া করে বসবাস করতে হতো। ২০০৭-০৮ সালের দিকে পরীমনির মা অগুনে দ্বগ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটা রহস্যাবৃত। এরপর থেকে পরীমণিকে তার বাবা সঙ্গে রাখতেন। ২০১২ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে তার বাবার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় বলে পরীমণির ঘনিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

২০১১ সালের দিকে পরীমণিকে নিয়ে সাভারের ব্যাংক টাউনে এক সাবেক নামকরা পুরুষ মডেলের বাসায় ভাড়া থাকতেন। এ বাড়ির দোতালায় তারা বসবাস করতেন। এ সময় পরীমণি সাভার কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে নিয়মিত ক্লাস করতেন না। সাভারে তার এক খালার বাসায় থাকতেন। এ সময় উক্ত মডেল পরীমনিকে মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালান। ২০১৪ সালে এক নাট্যপরিচালকের একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়া হয়। নাটকটি এসএ টিভিতে প্রচার হয়েছিল।

সেই থেকে পরী মিডিয়ার নানা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলে যান। নাটক থেকে চলচ্চিত্রে গিয়ে প্রভাবশালীদের ছায়ায় থেকে একের পর এক সিনেমা শুরু করেন। কোনো নতুন নায়িকার পক্ষে একসঙ্গে বিশ-পঁচিশটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া নিয়ে তখন চলচ্চিত্রাঙ্গণে বেশ তোলপাড় শুরু হয়। যদিও এসব চলচ্চিত্রের সিংহভাগই নির্মিত কিংবা মুক্তি পায়নি। এ পর্যন্ত পরীমনি অভিনীত চার-পাঁচটির বেশি সিনেমা মুক্তি পায়নি। মুক্তিপ্রাপ্ত এসব সিনেমা ব্যবসা সফল হয়নি। তারপরও পরীমনি ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে উঠেন।

চলচ্চিত্রের চালচিত্রে নাম যতোটা আলোকিত করতে পেরেছেন ততটা আলোচিত নয় পরীমণির ক্যারিয়ার। নামেই যেন সব। আট বছরে অভিনয় করেছেন মাত্র ২৪টি ছবিতে। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ছয় সিনেমা। রুপালি পর্দায় তিনটি ছবির চরিত্র আলোচনায় এলেও বাকিটা ছিল ধূলি ঢাকা ধূসর। প্রযোজকরা তাঁর পেছনে ২০ কোটি টাকা ব্যয় করলেও যার বিপরীতে তাদের আয় মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। বক্স অফিসে আলোচনায় মাত্র দুই সিনেমা ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ এবং ‘বিশ্বসুন্দরী’।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরীমণির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং সেগুলো ভেঙে যাওয়ার খবর বের হয়। সিনেমার চেয়েও অন্যজগতেই যেন বেশি আলোচনার ঝড় তুললেন এই রুপালি ঢাকাই সিনেমার নায়িকা।

ইত্তেফাক/এনএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x