প্রতিদিন ঢাকায় আসে কয়েক’শ কেজি গাঁজা

প্রতিদিন ঢাকায় আসে কয়েক’শ কেজি গাঁজা
গাঁজার বড় চালান উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

গাঁজা সেবন করতে এখন আর ‘কলকের প্রয়োজন হয় না। বিড়ি সিগারেটের মধ্যে ভরেই সেবন করা হয়। মাদক দ্রব্যের মধ্যে দিন দিনই গাঁজার চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই মাদককারবারিরা দিন দিন এখন ঝুঁকছে গাঁজার কারবারিতে। দেশের ব্রাক্ষণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকার কয়েক শত মানুষ এখন গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সীমান্তরক্ষী চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা আনছে হাজার চালান। অনেক সময় সীমান্তের ওপারের গাঁজাকারবারিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকার কোনো উঁচু গাছের ঢালে বেঁধে রেখে যায়। পরে সুবিধা মত বাংলাদেশের গাঁজা কারবারিরা সংগ্রহ করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঢাকায় চালান করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই জানিয়েছে গাঁজা কারবারি মোঃ: মামুন খান।

গত শনিবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি টিম মোহাম্মদপুর বছিলা রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ৫০ কেজি গাঁজা। এসময় জব্দ করা হয় গাঁজা বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার। গোয়েন্দা পুলিশ মামুনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, কতিপয় মাদককারবারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হতে মাইক্রোবাসযোগে গাঁজা নিয়ে ঢাকা হয়ে দিনাজপুরের উদ্দেশে যাবে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার বছিলা রোড, তিন রাস্তার মোড় এলাকায় অবস্থান নেয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। বিকাল সোয়া চারটার দিকে বছিলা তিন রাস্তার মোড় এলাকার জালাল টেলিকমের সামনে গাঁজা বহনকারী প্রাইভেটকারটি পৌঁছালে ব্যারিকেডের মাধ্যমে প্রাইভেটকারটি থামানোর চেষ্টা করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টাকালে মামুনকে প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।

No description available.

গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মামুন খান জানায়, বর্তমানে গাঁজার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর এ কারণে বর্তমানে গাঁজার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে সীমান্ত এলাকা থেকে প্রতি কেজি গাঁজা সংগ্রহ করা হতো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। বর্তমানে প্রতিকেজি গাঁজা সীমান্ত এলাকায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় কিনতে হয়। ঢাকায় এনে তা বিক্রি করে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায়।

মামুন খান আরও জানায়, বর্তমানে অধিকাংশ হাজার চালান আসে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বলেন্সে করে। গাঁজার বড় বাজার রাজধানী। এরপর দেশের উত্তরবঙ্গে। একই দিন তার মত আরও কয়েকজন গাঁজার চালান নিয়ে ঢাকায় আসে। তবে গত ১০ বছর ধরে গাঁজার ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও কখনো পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হয়নি। মামুন খান আরও জানায়, সীমান্ত এলাকা গাঁজা সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত দেশ ব্যাপী বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করে গাঁজা বেচাকেনা।

যে ভাবে আসে গাঁজা:

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ভারত থেকে আসা গাঁজার চালানের বড় অংশ আসে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকা দিয়ে। মাদককারবারিরা এসব চালান ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে গন্তব্যে পাঠায়। কখনো ট্রেনে, কখনও পণ্য ভর্তি ট্রাকে। গাঁজা ব্যবসায়িদের আস্তানা ঢাকার উপকণ্ঠ নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায়। সেখানে অনেকে তুলার ব্যবসার আড়ালে মজুদ করে মণে মণে গাঁজা।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x