নৌখাতের উন্নয়নে ১৫ দফা সুপারিশ গ্রিন ক্লাবের

নৌখাতের উন্নয়নে ১৫ দফা সুপারিশ গ্রিন ক্লাবের
আলোচনা সভায় অতিথিরা।

নৌ-দুর্ঘটনা তদন্ত, নৌযানের নকশা অনুমোদন ও অভ্যন্তরীণ মাস্টার-ড্রাইভারশিপ পরীক্ষার দায়িত্ব নৌ পরিবহন অধিদপ্তর থেকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশ (জিসিবি)। একইসঙ্গে নৌখাতের উন্নয়নে ১৫ দফা সুপারিশ পেশ করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব সুপারিশ করা হয়।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল ভদ্রর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ বদিউজ্জামান বাদল, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ সিকদার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, মিডিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্টের (মেড) নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

আলোচনার শুরুতে সুপারিশগুলো পেশ করেন জিসিবির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।

সুপারিশগুলো হলো:

১। সমুদ্রগামী জাহাজের প্রায় ১০ হাজার নাবিকসহ অভ্যন্তরীণ নৌযানের শতভাগ শ্রমিককে দ্রুত করোনার টিকা দেওয়া।

২। যেকোনো নৌদুর্ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিজ্ঞ নৌস্থপতি, নৌপ্রকৌশলী, পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, মাস্টারমেরিনার, নৌ পরিবহনবিষয়ক গবেষক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী ও নৌ মন্ত্রণালয়, নৌ অধিদফতর, নৌযানমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের একজন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে জাতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা।

৩। প্রত্যেক দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নৌ মন্ত্রণালয় ও নৌ অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ।

৪। আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত নৌযান নির্মাণের স্বার্থে নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব নৌ অধিদপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে একাধিক সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র নকশা অনুমোদন কমিটি গঠন।

৫। নকশা জালিয়াতি বন্ধে ১ জুলাই ২০১৯ থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত দুই বছরে কিছু নতুন জাহাজের নকশা অনুমোদন ও ‘কিল লেইং’-এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর নামসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

৬। ত্রুটিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধে যথাযথভাবে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য শূন্যপদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে নৌ অধিদফতরের ‘শিপ সার্ভেয়ার’ সংকট নিরসন ও বার্ষিক সার্ভে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।

৭। কোন শিপ সার্ভেয়ার কোন মাসে কী পরিমাণ নৌযান নিবন্ধন ও সার্ভে করছেন, তাদের নামসহ তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

৮। দক্ষ নৌযানচালক তৈরি করতে বুয়েট ও চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বাধীন ‘অভ্যন্তরীণ মাস্টারশিপ-ড্রাইভারশিপ পরীক্ষা বোর্ড’ গঠন করতে হবে।

৯। অধিদফতর থেকে সমুদ্রগামী নাবিকদের সার্টিফিকেট অব প্রফিসিয়েন্সি (সিওপি), অভ্যন্তরীণ নৌযানচালকদের সনদ নবায়নসহ অন্যান্য সেবা ও নৌযানমালিকদের নিবন্ধন-বার্ষিক ফিটনেস সনদ পেতে সময়-অর্থব্যয় ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

১০। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নৌ অধিদফতরকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ, দ্রুতগতির টহলবোটসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক জলযান ও কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি বরাদ্দ দিতে হবে।

১১। রাজস্ব আদায় ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে বৈধ-অবৈধ সব ধরনের নৌযানের সংখ্যা নির্ধারণে অবিলম্বে জাতীয় নৌশুমারির ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। নিবন্ধন ও ফিটনেসবিহীন নৌযানের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ অধিদফতরকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনা দিতে হবে।

১৩। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নৌ-অধিদফতরের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ডুবে থাকা জাহাজের সার্ভে’র ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সিদ্ধান্তে ও নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নৌ অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। বিকল্পে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।

১৪। নদী খনন ও নৌপথের পলি অপসারণ কাজের গতি বাড়ানো, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চলমান প্রকল্পগুলোর তথ্য সবিস্তারে বিআইডব্লিউটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।।

১৫। বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লিউটিএসহ সব সরকারি দফতরের নৌযানগুলোকে হালনাগাদ সার্ভের আওতায় আনতে হবে।

ইত্তেফাক/এনই/

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x