যৌতুক ও পরকীয়ায় বাধা দেওয়াই কাল হলো স্বর্ণার

ঘুমন্ত স্ত্রীর শরীরে গরম তেল ঢেলে হত্যা
যৌতুক ও পরকীয়ায় বাধা দেওয়াই কাল হলো স্বর্ণার
প্রতিকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

যৌতুকের জন্য নিয়মিত চলতো নির্যাতন। সেই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়া এবং ভরণপোষণের টাকা না দেওয়ায় পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান স্বর্ণা। এক পর্যায়ে সাভারের জিরানিতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিন্তু স্বামী সজনু মিয়ার তত্পরতা থামেনি। ঠিকানা জোগাড় করে স্বর্ণার কাছে গিয়ে আবার যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা জানালে, ঘুমন্ত স্বর্ণার ওপর গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যান সজনু মিয়া। ঘাতক স্বামী সজনু মিয়াকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার রাতে জামালপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সজনু মিয়ার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়িতে বসবাস করতেন। সজনু মিয়া গার্মেন্টসের দোকানদারি করতেন। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় এবং যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই স্বর্ণাকে নির্যাতন করা হতো। এর আগেও যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে গুরুতর জখম করায় মৃত স্বর্ণার দুলাভাই সজনু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। ঐ মামলায় তিনি জেলেও যান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু কিছু দিন পরে আবারও স্বর্ণার ওপরে নির্যাতন শুরু হয়। এ কারণে স্বর্ণা ছয় মাস আগে বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জে চলে যান। অভাবের কারণে আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেন। কিন্তু সজনু তার স্ত্রীর ঠিকানা জোগাড় করে সেখানে যেয়েও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। দিতে অস্বীকার করলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্বর্ণার শরীরে গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যান সজনু মিয়া।

রাতেই সহকর্মীরা তাকে সাভার থেকে জামালপুরের সজনু মিয়ার নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন সকালে তাকে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় ৫২ শতাংশ দগ্ধ হওয়া স্বর্ণার।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x