ঢাকা রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬
৩৫ °সে

দিনভর বিক্ষোভের পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

দিনভর বিক্ষোভের পর সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

দিনভর বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় সড়ক থেকে আজকের মতো অবরোধ তুলে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ায় পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নর্দ্দায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৭টার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেইটের সামনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে একটি বাসচাপা দেয়। এতে প্রাণ হারান তিনি। এরপর শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

তাদের সঙ্গে বেসরকারি নর্থ সাউথ ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। এতে বিমানবন্দর থেকে বিশ্বরোড ও বাড্ডা হয়ে রামপুরা এবং গুলিস্তান রুটের সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আবরার জেব্রা ক্রসিংয়ে দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন। এসময় অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি আবরারকে ধাক্কা দেয়। এরপর ওই বাসের নিচে চাপা পড়েন তিনি।

দুর্ঘটানস্থলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনকারীদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী বলেন, আজকের মত তারা সড়ক থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিয়েছেন। তবে বুধবার আবার সকাল ৮টায় সড়কে অবস্থান নেবেন তারা। এছাড়া বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

আরো পড়ুন: ক্রাইস্টচার্চ হামলার জন্য আমি দায়ী নই: ট্রাম্প

এ ঘটনায় আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর শিক্ষার্থীদের কাছে যান। তিনি বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। তবে ছাত্রসমাজকে সচেতন থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বানচালে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

এদিকে সকালে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা উত্তরের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। তখন শিক্ষার্থীরা তার কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে রয়েছে- আবরারকে চাপা দেওয়া বাসের চালককে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে, বাসস্টপেজের ব্যবস্থা করা, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা, বসুন্ধরা গেইটে ফুটওভার ব্রিজ করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা ও ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ করা।

বিক্ষোভে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

এসময় মেয়র বাসচালকের শাস্তি নিশ্চিত করা ও নিহত শিক্ষার্থীর নামে সেখানে একটি পদচারী-সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সুপ্রভাত পরিবহনের কোনো বাস ওই রুটে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এরপর মেয়র অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় অবরোধকারীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা মেয়রের কাছে প্রশ্ন রাখেন, জাবালে নূর পরিবহন এখনো চলছে। এখনো প্রতিদিন সড়কে মানুষ মারা যাচ্ছে। অবরোধকারীদের এমন মন্তব্যের পর মেয়র ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

দুপুরের দিকে নিহত আবরার আহমেদ চৌধুরীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের বিইউপি এডিবি গ্রেড গ্রাউন্ড মাঠে। জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আবরারের বিইউপি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা হলেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবিদ আহমেদ চৌধুরী।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন