ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
৩৪ °সে


পদরক্ষায় দৌড়ঝাপ সামীম আফজালের, মন্ত্রী বললেন পদত্যাগ ছাড়া পথ খোলা নেই

পদরক্ষায় দৌড়ঝাপ সামীম আফজালের, মন্ত্রী বললেন পদত্যাগ ছাড়া পথ খোলা নেই
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির পদত্যাগ দাবি

দশ দিন যাবৎ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) অচলাবস্থা চললেও পদত্যাগ করতে রাজি নন প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিভিত্তিক মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল। সামীম আফজালের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল বুধবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডিজির পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সামীম আফজাল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ডিজির ভাতিজা প্রডাকশন ম্যানেজার শাহ আলম, পরিচালক জালাল আহমদ, এবিএম শফিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ আলম, ডা. এবিএম জাহাঙ্গীর, মুহাম্মদ রফিক উল ইসলাম, উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ আলম, মুহাম্মদ রফিক উল ইসলাম, মজিব উল্লাহ ফরহাদ, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান, নূর উদ্দিন।

এছাড়া ডিজির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং এর সভাপতি ফরিদ আহমেদ ডিজির পদত্যাগ দাবি করে বক্তব্য রাখেন।

এদিকে কয়েকজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, আন্দোলনকারী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদের ‘টোপ’সহ কর্মসূচি বন্ধ করতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল।তিনি পদে টিকে থাকার জন্য গত তিন দিন সরকারের প্রভাবশালী মহলে দেন দরবার করছেন।

ইফার সিনিয়র পরিচালক মাহাবুব আলম জানান, ডিজির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। গতকাল সকালে ইফার কার্যালয়ে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন ডিজি। একজন এসআই এসে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিতে চাইলে বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়। তারপর পুলিশ চলে যায়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, সামীম মোহাম্মদ আফজাল ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে গত ১৬ জুন সামীম আফজালের পদত্যাগ করার কথা ছিল। তারপরও পদ ছাড়তে রাজি নন। তবে এই মুহূর্তে ইফা ডিজির পদ থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। ফাউন্ডেশনের সবাই তার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। ফাউন্ডেশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসা খুবই দুঃখজনক।

ইফার একজন পরিচালক জানান, সামীম মোহাম্মদ আফজাল আলেম বা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে তদবির করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তারপর বারবার চুক্তি নবায়ন করে ডিজি পদে আছেন। সামীম আফজালের নজিরবিহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতায় ইফা ডুবতে বসেছে। তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দৈনিক-ভিত্তিতে শত শত কর্মচারী নিয়োগ, অন্যের দ্বারা বই লিখিয়ে লাখ লাখ টাকার রয়্যালিটি গ্রহণ, বিনা কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাহারসহ নানা অনিয়মের তথ্য এখন বেরিয়ে আসছে। ইফাকে তিনি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।

আরও পড়ুন: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সড়ক দুঘটনায় শিক্ষক নিহত

গত ১০ জুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলেও নোটিশের জবাব দেননি তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন