এরশাদের শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি

এরশাদের শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি
এইচএম এরশাদ (ফাইল ছবি)

ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচএম এরশাদ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বুধবার সকালে হাসপাতালে ভর্তির পর গত তিনদিনে অবস্থার দৃশ্যমান কিছুটা উন্নতি মনে হলেও রবিবার ভোর থেকে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। ফুসফুসে পানি জমেছে, ফলে তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। চিকিৎসকরা কৃত্রিম উপায়ে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রেখেছেন।

সিএমএইচে এরশাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকা তার ব্যক্তিগত স্টাফদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলে জানা গেছে, এরশাদ রবিবার সারাদিন একবারের জন্যও কথা বলার চেষ্টা করেননি। চোখও মেলেননি। মাঝে-মধ্যে হাত-পা নাড়াচ্ছেন। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। দুর্বলতা কাটাতে চিকিৎসকরা স্যালাইন দিয়ে রেখেছেন।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে এরশাদের প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে দফায়-দফায় জ্বর আসে। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে বুধবার সকালে তাকে সিএমএইচের ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর প্রতিদনই তাকে দেখতে গেছেন স্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। রবিবার দুপুরেও তিনি এরশাদকে দেখতে যান। এরপর সন্ধ্যায় রওশন এরশাদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি সিএমএইচ থেকে দুপুরে সংসদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার লবিতে দেখা করেছি। এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কয়েকবার সিএমএইচে কথা বলেছি। উনার চিকিৎসার জন্য টাকার কোন সমস্যা হবে না। চিকিৎসকরা যদি মনে করেন বিদেশে নেওয়া দরকার সেই ব্যবস্থা করা হবে।

আরো পড়ুন: শতভাগ ভোট পড়া কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়: সিইসি

এদিকে রবিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এরশাদের অবস্থা সম্পর্কে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আজ থেকে এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। এমনকি ফুসফুসে পানি জমেছে। যার কারণে তিনি নিজ থেকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন না। চিকিৎসকরা তাকে অক্সিজেনের সাপোর্ট দিয়ে রেখেছেন।

তিনি জানান, চিকিৎসকরা দুই দফায় বোর্ড বসেছেন। সিএমএইচের চিকিৎসায় আমরা সন্তুষ্টু। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের চিকিৎসার জন্য অর্থের কোন সংকট হবে না। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও সাবেক সেনা প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।’

ইত্তেফাক/এমআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত