ঢাকা বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


রাজধানীতে ১৯ লাখ জাল রুপি উদ্ধার, আটক ৩

রাজধানীতে ১৯ লাখ জাল রুপি উদ্ধার, আটক ৩
জাল রুপি ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জাল রুপি তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার সকালে রামপুরার পলাশবাগ মোড়ের একটি ভবনের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৯ লাখ জাল রুপি ও রুপি তৈরির সরঞ্জাম এবং মূল কারিগর ও ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ জানায়, এর আগে ৯ জুলাই রামপুরার উলন রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পান তারা। সেখান থেকে রুপি তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ফয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরেই সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রামপুরার পলাশবাগ মোড়ের একটি বাড়ির অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে জাল রুপি তৈরির কারখানার সন্ধান পান তারা। এ সময় মোট ১৯ লাখ ভারতীয় জাল রুপির ৫০০ ও ২ হাজারের নোট ও জাল নোট তৈরি চক্রের কারিগর ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম খসরু, জনি ডি কস্তা ও আব্দুর রহিম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সেখান থেকে জাল রুপি তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, একটি কালার প্রিন্টার, একটি লেমিনেশন মেশিন, বিপুল পরিমাণ রুপি তৈরির কাগজ, বিভিন্ন ধরনের কালি, সিকিউরিটি সিল সম্বলিত স্ক্রিন বোর্ড, গাম ও সিলসহ একই ধরনের বিশেষ ফয়েল পেপারও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রামপুরার ওই বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন চক্রের সদস্য জনি। জনি ও চক্রের বাকি দুই সদস্য খসরু ও রহম এর আগেও জাল নোট তৈরির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছে। তবে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার আগের অপরাধেই যোগ দেয়। রফিকুল ইসলাম খসরুর নেতৃত্বে এই চক্রটি জাল নোট তৈরি করে এই চক্রটি। এরপর তৈরি করা এসব জাল রুপি সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিত সে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক মামলার আসামি নিহত

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান জানান, আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে পোশাক ও কোরবানির গরু আমদানির ব্যবসাকে সামনে রেখেই চক্রটি জাল রুপি তৈরি করে বিভিন্ন সীমান্তে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি বাজারে ছেড়েছে। আর তাদের কাছ থেকে যে পরিমাণ জাল নোট তৈরির কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে অন্তত দুই কোটি জাল রুপি ছাপানো সম্ভব। জাল নোট তৈরির এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, এই কারিগররা এর আগেও ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকা বানিয়েছে এবং একই অপরাধে কারাভোগও করেছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন