নতুন ওষুধের প্রাথমিক পরীক্ষায় অজ্ঞান ৮০ শতাংশ মশা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

ভারত থেকে আনা দুইটি নতুন মশার ওষুধের মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা (ফিল্ড টেস্ট) করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ছবি: ইত্তেফাক

ভারত থেকে আনা দুইটি নতুন মশার ওষুধের মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা (ফিল্ড টেস্ট) করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে প্রাথমিক পরীক্ষায় ৮০ শতাংশের বেশি মশা অজ্ঞান বা নট ডাউন হয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন আমদানি করা এ দুইটি ওষুধকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। তবে আজ বুধবার ২৪ ঘণ্টা পর এ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হবে।  মঙ্গলবার বিকালে দক্ষিণ সিটির নগর ভবনের বারান্দায় এ পরীক্ষা করা হয়।

 

ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মিনতি সাহা ও কৃষি অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রটেকশন উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক ড. আমিনুর ইসলাম।

 

ভারতীয় কোম্পানি টেগ্রোস কেমিক্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেডের তৈরি ওষুধ দুটির ফিল্ড-টেস্টে প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত ‘কার্যকারিতা’ পাওয়া যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এ ওষুধ দ্রুত আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। টেগ্রোস কেমিক্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেড থেকে আমদানি করা ঐ ওষুধ দুইটির নাম ম্যালাথিউন ৫ শতাংশ আরএফইউ ও ডেল্টামেথ্রিন ১১.২৫ শতাংশ ইএলভি।

 

প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার জন্য তিনটি খাঁচার মধ্যে ৫০টি করে মশা রাখা হয়। ২০ মিনিট পর প্রতিটি খাঁচায় কয়টি মশা জ্ঞান হারিয়েছে বা মারা গেছে বা উড়ন্ত অবস্থা থেকে পড়ে রয়েছে সেটি গণনা করা হয়। এরপর গড় হার নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষায় ম্যালাথিউন ৫ শতাংশ আরএফইউ ওষুধের কার্যকারিতা প্রথম খাঁচায় ৯২ শতাংশ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খাঁচায় শতভাগ পাওয়া গেছে। আর ডেলটামেথ্রিন ১ দশমিক ২৫ শতাংশ ইউএলভি স্প্রে করার পর তিনটি খাঁচায় অজ্ঞান হওয়া বা নক ডাউন মশার শতকরা সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৪, ৯২ এবং ৮২ শতাংশ। এছাড়াও ডিএসসিসিতে বর্তমানে ব্যবহূত লিমিট লিকুইড ইনসেকটিসাইড ওষুধটির প্রথম নমুনায় ৯০, দ্বিতীয় নমুনায় ১০০ ও তৃতীয় নমুনায় ৮৪ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মারা গেছেন

 

এরপর খাঁচাগুলো সিলগালা করে রেখে দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর এসব খাঁচার মশাগুলোকে আবারও গণনা করা হবে। তাতে যদি ৮০ ভাগের বেশি মশা মারা যায় তখন ধরে নেওয়া হবে ওষুধগুলো ফিল্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব এমন পরীক্ষার পর নমুনাগুলো আবার পাঠানো হবে আইইডিসিআর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে। সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা পরীক্ষা হবে। এর ফলাফল পাওয়ার পর তা পাঠানো হবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে। সেখান থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা যাবে। এরপর শুরু হবে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া।

 

ইত্তেফাক/ইউবি