নতুন আতঙ্কের নাম দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট

নতুন আতঙ্কের নাম দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট
ছবি: প্রতীকী

দেশে বর্তমানে যে সংখ্যায় মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, তার ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ফলে করোনা ভাইরাসের এই ধরন বাংলাদেশে নতুন আতঙ্ক হিসেবে হাজির হয়েছে। দেখা গেছে, গত বছরের শেষ ভাগে করোনা ভাইরাসের যে নতুন ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার শনাক্ত হয়েছিল, সেই ধরনই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত হওয়ার হার খুব দ্রুত বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুও। আর সেজন্যই ধারণা করা হচ্ছিল যে সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়তো হয়েছে। চিকিত্সকেরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে যারা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে আগে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রথম দফার তুলনায় এবারে রোগীদের একটি অংশের মধ্যে অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার প্রবণতা চিকিত্সকেরা দেখতে পাচ্ছেন। বিশেষ করে ৫০ ভাগ ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রোগী জানতে পারছে যে, তার করোনা হয়েছে। অনেককে আক্রান্ত হওয়ার ছয়-সাত দিনের মধ্যেই উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দিতে হচ্ছে এবং তা-ও আবার সেটি তুলনামূলক দীর্ঘ সময়, যেমন ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের অবস্থা একটু খারাপ হলে তা দ্রুতই আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

আগে আইসিইউতে কোনো রোগী এলে বেশির ভাগকেই ৮-১০ দিনের মধ্যে রিকভারি করে কেবিনে পাঠানো হতো। কিন্তু এবার সেটি হচ্ছে না। এবার অনেক দীর্ঘ সময় লাগছে এবং আইসিইউ থেকে অনেকে আবার ফিরতেও পারছেন না। অনেকেরই ফুসফুস দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে এবং রক্ত জমাট বাঁধছে। বর্তমানে করোনা রোগীদের মধ্যে কারো কারোর রক্তের অণুচক্রিকার সঙ্গে হিমোগ্লোবিনও কমে যাচ্ছে। অথচ গত বছর প্রথম দফার সংক্রমণের সময় অনেকের রক্তের অণুচক্রিকা কমলেও তখন হিমোগ্লোবিনের সমস্যা রোগীদের মধ্যে ছিল না।

শনাক্ত ৭ হাজারের নিচে :এদিকে গত এক দিনে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা ৭ হাজারের নিচে নেমেছে; গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ হাজার ৪৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত এক দিনে মৃত ৭৪ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট ৯ হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হলো। আর নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৩২ জন হয়েছে। গতকাল নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ জন পুরুষ আর নারী ২৬ জন। মৃতদের মধ্যে ৪৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৭৪ মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪৩ জন। করোনা ভাইরাসে দেশে মোট মৃত ৯ হাজার ৫২১ জনের মধ্যে ৭ হাজার ১৩০ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৩৯১ জন নারী।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x