হাটবাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

হাটবাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
চাটমোহর (পাবনা) : মঙ্গলবার দুপুরে চাটমোহর পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার চিত্র —ইত্তেফাক

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এক সপ্তাহের জন্য সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরও মানুষ তা মানতে অনীহা দেখাচ্ছে। ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনের খবরে চাটমোহরের মানুষ বেড়িয়ে পড়ে হাটবাজার, রাস্তা ও শপিংমলে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই চাটমোহর পৌর শহরে পা ফেলার জায়গাটুকুও যেন ছিল না।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের প্রধান সড়কে ছিল দীর্ঘক্ষণের যানজট। অসংখ্য অটোভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অটো বোরাকের দখলে ছিল সড়ক। উপচেপড়া ভিড় আর কেনাকাটা দেখে বোঝার উপায় ছিল না করোনাকাল চলছে। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আবুল কালাম বলেন, লকডাউনের কারণে বুধবার সবকিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছি। পরিবারের সবাই এসেছে। কী করব বলেন।

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, অসচেতন মানুষের অজুহাতের শেষ নেই। করোনার চেয়ে এ সব মানুষের কাছে কেনাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সৈকত ইসলাম জানান, বুধবার থেকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে সবাইকে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, সরেজমিনে মঙ্গলবার হোমনা বাজারের কাঁচাবাজারসহ শপিংমল ও ফুটপাতগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ভিড় ঠেলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বিভিন্ন দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। এ সুযোগে বিক্রেতারাও অধিক দামে পোশাক বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা উপজেলার হরিপুর গ্রামের রুমমালা খাতুন জানান, ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। স্বামী বিদেশে থাকে তাই সন্তানদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি। মনাইরকান্দি গ্রামের আমিনা বেগম জানান, এক সপ্তাহ লকডাউনের পরে যদি আবার লকডাউন দেয় তাই মাসের বাজার করতে এসেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমন দে জানান, করোনা প্রতিরোধে উপজেলায় নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রচারণায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রয়েছে।

ঝিনাইদহ থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ শহরে মঙ্গলবার বিপণী বিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও কোনো বালাই ছিল না। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে কেউই মানছে না।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x