নারায়ণগঞ্জের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বঞ্চিত সাধারণ রোগী

সেবার স্থান পরিবর্তনের দাবি
নারায়ণগঞ্জের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বঞ্চিত সাধারণ রোগী
ছবি: সংগৃহীত

১০টি আইসিইউ নিয়ে নগরীর খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়। এক বছর পরে আইসিইউ সংখ্যা সেই ১০ই আছে। গত এক বছরে এ হাসপাতালে ১ হাজার ৬২০ জন করোনা রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। করোনা হাসপাতালে রূপান্তরের আগে এ হাসপাতালে এক দিনেই প্রায় আড়াই হাজারের বেশি সাধারণ রোগী নানা ধরনের চিকিত্সা পেতেন। সে হিসেবে বছরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ চিকিত্সা নিতেন। করোনা হাসপাতালে রূপান্তরের কারণে এক বছর ধরে সাধারণ রোগীদের চিকিত্সা বন্ধ। অন্যদিকে করোনায় আক্রান্তের তুলনায় হাসপাতালের সক্ষমতাও কম। করোনার চিকিত্সার চাপ কুলাতে পারছে না এই স্বল্প শয্যার হাসপাতাল। তাই দাবি উঠেছে নারায়ণগঞ্জের অব্যবহূত আটতলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনটিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তরের। এতে একদিকে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা আগের মতোই চিকিত্সার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে করোনা চিকিত্সার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এম এ বাশার জানান, গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ১৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়। শুরুতে হাসপাতালে ১০টি আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়। গত এক বছরে আর আইসিইউ বাড়েনি। আর গত এক বছরে এ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৬২০ জন করোনা রোগী চিকিত্সা নিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১০-১২ দিন ধরে এ হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। হাসপাতালে মোট ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। গত শনিবার ১০টি আইসিইউর মধ্যে ৯টিতেই রোগী ছিলেন। অন্যদিকে ১০০টি আইসোলেশন বেডের মধ্যে ৮৩টিতেই রোগী ছিলেন। আগের আইসোলেশন বেডে রোগী ছিলেন ৮৫ জন। এ ছাড়া পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে এখন দৈনিক পৌনে ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রয়েছে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা। গড়ে প্রতিদিন দেড়শর মতো মানুষকে হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১৩৫ জন রোগী মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৬৪ জন করোনা পজিটিভ, ৪৩ জন নেগেটিভ ও ৬৭ জন সন্দেহ তালিকায় ছিলেন।

হাসপাতালে আইসোলেশনে ও আইসিইউতে থাকা অনেক রোগীর আত্মীয় হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান করছিলেন। তাদের এক জন আবু জাফর জানান, চিকিত্সা ভালোই। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বেড কম হওয়ায় হাসপাতালে বেড পাওয়া খুবই কঠিন। বড় বড় ভিআইপিদের ধরে এখানে বেড পেতে হয়। কয়েকদিন আগেও অক্সিজেনের খুবই সংকট ছিল। এমপি সেলিম ওসমান বেশ কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়ায় সে সমস্যা কমেছে। কিন্তু বেডের সংখ্যা না বাড়ালে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় এই একটি মাত্র হাসপাতাল অপ্রতুল। করোনা রোগীদের জন্য আরো আইসোলেশন বেড, আইসিইউসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিষয়টি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহসভাপতি রফিউর রাব্বি বলেন, নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্তদের এখন ৩০০ শয্যার হাসপাতালই ভরসা। তাই এখানে আইসিইউ ১০টির জায়গায় ১০০টি ও আইসোলেশন বেড ১০০টির জায়গায় ৪০০টি করা দরকার। খানপুর হাসপাতাল করোনা ডেডিকেটেড করায় সাধারণ রোগীরা চিকিত্সা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। এ জন্য পুরাতন কোর্ট এলাকায় অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকা আটতলা জুডিশিয়াল আদালত ভবনকে জরুরি ভিত্তিতে করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার ডা. বাশার বলেন, অব্যবহূত জুডিশিয়াল আদালত ভবনে করোনা হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রস্তাব তিনিও একাধিকবার দিয়েছেন। সে ব্যাপারে এখন রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

ইত্তেফাক/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x