অসময়ের বসন্ত

অসময়ের বসন্ত
তসলিমা হাসান। ছবি: সংগৃহীত

খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। কাজের দিনগুলোতে সকালে ওঠার জন্য এলার্ম দিতে হয়। তারপরও ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়ে যায়। অথচ ছুটির দিনগুলোতে সাতসকালেই ঘুম ভেঙে যায়। তারপর আর সহজে ঘুমও আসে না। বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরে আবার চোখ বন্ধ করলাম এবং আশ্চর্যজনকভাবে ঘুমিয়েও পড়লাম। একঘুমে সকাল সাড়ে নয়টা। বেশ আত্মতৃপ্তি নিয়েই বিছানা ছাড়লাম। কিচেনে গিয়ে কফির জন্য দুই মগ পানি চড়ালাম। তৃপ্তি সকালে এক মগ কফি পেলে খুবই খুশি হয়। কাজের দিনগুলোতে হয় না, ছুটির দিনগুলোতেই সেটা সম্ভব।

কফির মগ দুটো নিয়ে ওর ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলাম। ও জানালার পাশে দাঁড়ানো। তার দৃষ্টি নিবিড়ভাবে দূরে কোথাও নিবদ্ধ। সময় কত তাড়াতাড়ি চলে যায়! এই জানুয়ারিতে মেয়েটা ১৭ বছরে পা দেবে। অথচ এই তো সেদিন যখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ওর বাবা সৈকতের সংসার ছেড়ে চলে আসলাম, তখন ওর বয়স মাত্র ১২।

কফির মগ দুটো ওর বিছানার পার্শ্ববর্তী টেবিলে রেখে ডাক দিলাম,

মামনি…

হু!

`আমি তোমার রুমে এলাম পাঁচ মিনিট, টের পাওনি। কি এমন ভাবছিলে, মা? কফিটা ধরো।‘

`নাথিং সিরিয়াস, আম্মু। জাস্ট বাইরের ওয়েদারটা দেখচ্ছিলাম। খুব স্নো পড়ছে আজ।‘

ডিসেম্বরের শেষে নিউইয়র্কে বরফ পড়তে শুরু করে। তাই প্রবাসীরা এই সময় দেশে গিয়ে ভ্যাকেশন কাটায়। কিন্তু আমার তো দেশে কেউ নেই। আর যে আছে তাকে…

এইটুকু ভাবনার মধ্যেই তৃপ্তি আমাকে হাল্কা জড়িয়ে ধরে বললো,

থ্যাংক ইউ আম্মু। কফিটা ভালো ছিল।

এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। মেয়েটা বয়স তুলনায় অনেক ম্যাচিউর। ওরমধ্যে তারুণ্যের উচ্ছ্বলতাও কম। একা থাকতেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই দুই একজন বন্ধু ছাড়া তেমন কেউ নেই ওর সঙ্গে।

আমি বুঝি, ঠিক ওই বয়সটায় বাবা-মার বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ মেয়ের এই সুক্ষ্ম পরিবর্তন। কিন্তু একজন মাতাল বদরাগী বাবার চেয়ে এই দূরে থাকাটা অনেক বেশি মঙ্গলজনক ছিল তৃপ্তির জন্য। সাথে আমারও!

মেয়েটা আবারও নিমগ্ন জানালার বাইরে। ওকে ওর মতো থাকতে দেওয়া সমীচীন মনে করে ফিরে এলাম আমার ঘরে।

গত সপ্তাহে একটা গল্প লেখা শুরু করেছিলাম। শেষ প্যারাটায় এসে কেমন আটকে গেলাম। তাই মগটা নিয়ে লেখার টেবিলেই বসলাম। আজ যেভাবেই হোক গল্পটা শেষ করতে হবে। এখানকার একজন বাংলা পত্রিকার সম্পাদক খুব তাড়া দিচ্ছেন। ওনার পাক্ষিক পত্রিকায় আমার একটা গল্প চান। `অসময়ের বসন্ত‘ গল্পটা ওনার জন্য লিখেছি। শেষটায় এসে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ বসে শেষ করলাম। প্রত্যেকটা গল্প শেষ করার পর একটা নতুন প্রাপ্তির আনন্দ সারা মনজুড়ে বিরাজ করে। কিশোরীর মতন টগবগিয়ে শিহরণ জাগায় মনের আনাচেকানাচে।

টুং টাং করে মোবাইলে মেসেজ আসার সংকেত।

নিশ্চয়, শাহেদ!

এতোটা বেলা হলো আর ওর ফোন বা ম্যাসেজ না আসাটাই আশ্চর্যজনক।

মোবাইল হাতে নিয়ে জয়ীর একটা হাসি দিলাম, ঠিকই ধরেছি।

কেমন আছো, লেখিকা সাদিয়া হক? ছুটির দিনে কি আমাকেও ছুটি দিলে?

না তো! লিখছিলাম।

তাই! কি লিখছিলে?

অসময়ের বসন্ত, শেষ করলাম।

কি বলো! আমাকে পাঠাও এক্ষুনি।

না! এবার পান্ডুলিপি না, একেবারে পত্রিকাটা পাঠাবো তোমাকে।

এতোদিন অপেক্ষায় রাখবে?

হুম!

গত বছর মে মাসের শেষের দিকে শাহেদের সাথে আমার প্রথম যোগাযোগ শুরু। আমার লেখা প্রথম বইটি পড়ে ও আমার সাথে বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। মেইল, ম্যাসেজ পাঠাতে থাকে অনবরত। একসময় আমি সৌজন্য প্রত্যুত্তর দেই। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব। একসময় সেটা তার থেকেও বেশী। আর আজকাল মনে হয় আমরা অনেকটাই নির্ভরশীল দুজন দুজনের প্রতি। যেই নির্ভরশীলতা মানুষকে বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগায়, আত্মবিশ্বাসী করে।

শাহেদ চল্লিশোর্ধ্ব মাঝবয়সী লোক। আমি ওর থেকে দু-এক বছরের ছোট হবো। খুব খুঁতখুঁতে স্বভাবের কারণে বিয়ে করে উঠতে পারেনি। বই পড়া আর ঘুরে বেড়ানো ওর শখ। ওর ধারণা আমার লেখা উপন্যাসের নায়িকার মতোই আমি পরিচ্ছন্ন, প্রাণচঞ্চল এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। আমার সাথে কথা বলতে বলতে ওর সেই ধারণা মিলে যায় পুরোপুরি।

এখন প্রতিদিন চার-পাঁচবার ওর সাথে আমার কথা হয়। আমি ঠিকঠাক খেলাম কিনা, আমার অফিস, আমার ঘুম, ওষুধ, ব্যায়াম সবকিছুর তদারকি করাও শাহেদের রুটিনের মধ্যেই থাকে। আমিও তাই। শাহেদের ব্যক্তিগত জীবনের সবটা জুড়েই আমি রয়েছি। ওর প্রতিদিনকার অফিস থেকে শুরু করে রাতে বাড়ি ফেরার পর দু-এক ঘন্টা কথা বলে তারপর আমাদের দিন শেষ হয়। এতোটা যত্ন-ভালোবাসা, নির্ভরতা আমি কোনোদিন সৈকতের কাছে পাইনি। তাই এতোটা দূরে, স্পর্শের বাইরে থেকেও শাহেদ আর আমি দুজন দুজনের অনেক কাছের, অনেক প্রিয়, অনেক ভালোবাসা বহন করি।

আজ আবার শাহেদ আমাদের বিয়ের কথা তুললো। ওর বাসার সবার অর্থাৎ ওর ভাই বোনদের আপত্তি ছিল প্রথমে। পরে শাহেদের বয়স এবং একান্তই এটা ওর ব্যক্তিগত বিষয় বলে মেনে নিয়েছে অবশেষে। আপত্তিটা ছিল আমি এক বাচ্চার মা আর শাহেদ অবিবাহিত এই কারণে। শাহেদ এর বাবা-মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। কিন্তু অসুবিধা হলো আমার দিক থেকে। আমি কিছুতেই তৃপ্তিকে আমাদের এই সম্পর্কের কথা বলতে পারছি না। ও জানে শাহেদ আর আমার বন্ধুত্বের কথা। কিন্তু ওকে বিয়ে করার বিষয়টা মেয়েটা যদি মেনে নিতে না পারে! যদি আবার একটা ধাক্কা খায়! এতটুকু বয়সে ও পারবে নিজেকে সামলে নিতে? এখনো মাঝেমাঝে মধ্যরাতে মেয়েটা তার কোলবালিশ নিয়ে আমার ঘরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়। আমি বুকে টেনে নিলে, বুকের কাছে নাক ঘষে বলবে, আই মিস ইউ, মম।

আরেকটা লোক যখন ওর সেই ভরসার জায়গাটা দখল করবে, ওর নিশ্চয়ই তখন শূন্য লাগবে পুরো পৃথিবীটা!

অবসর আর সাচ্ছন্দ্যের দিনগুলো শেষ হয় তাড়াতাড়ি! দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার ভ্যাকেশন। আর মাত্র ৬ দিন আছে। অবসন্ন শরীরটা এলিয়ে দিলাম বিছানায়। বাইরে আজ সুন্দর মেঘলা আকাশ। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি অবিরল। এমন দিনে ছোটবেলায় আমার মা খিচুড়ি চড়িয়ে দিতেন। সাথে থাকতো ডিম ভাজা আর শুকনো মরিচ পোড়া। তারপর গরম খিচুড়িতে যখন গাওয়া ঘি এর ফোঁড়ন পড়ত সেই গন্ধ সারাবাড়িতে ছড়িয়ে যেত। হায়রে ছোটবেলা!

আজ বাবা-মা কেউ নেই। আমি ছিলাম তাদের একমাত্র সন্তান। দেশে আপন চাচা, মামা আছে। কিন্তু আমি কোনো টান অনুভব করি না। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকে তাই দেশে যেতেও মন চায় না। কিছু কিছু কষ্ট থাকে, যা গোপন করে রেখে মন প্রশান্তি পায়।

মোবাইলের রিং টোনে বাস্তবে ফিরে এলাম।

বলো শাহেদ!

সাদিয়া, তোমার ছুটি শেষ হয়ে আসছে।

এই মাত্র এটাই ভাবছিলাম, জানো! তোমার আর আমার মনের চলাচলও আজকাল একই পথে।

কি আশ্চর্য!

হ্যাঁ! কিন্তু গন্তব্য ভিন্ন।

মানে? বুঝলাম না, শাহেদ।

তুমি আমাদের বিয়ের কথাটা নিয়ে সত্যি একটু সিরিয়াস হও, সাদিয়া।

তোমার কি মনে হয়, আমি সিরিয়াস নই?

যদি তাই হতে, তাহলে এই ছুটিতে তুমি দেশে আসতে। তোমাকে একটু দেখার জন্য, একটু ছোঁয়ার জন্য আমার কতটা অস্থির লাগে তোমাকে বোঝাতে পারবো না। তোমার কাছে আমার এই অনুভূতির কোনো মূল্য আছে কি?

এভাবে কোনোদিন কথা বলেনি শাহেদ। আজ হঠাৎ এমন সুরে কথা বলায় আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম। মনে হলো আমার সমস্ত শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

শাহেদ বলে চললো, তোমার কাছে তৃপ্তি আছে তাই তুমি একা থাকার কষ্টটা বুঝো না। প্রতিমুহূর্তে আমি তোমার চিন্তায় মগ্ন থাকি। বলতে পারো যখন তুমি ছিলে না তখন কিভাবে দিন কেটেছে? আসলে তখনকার আমি অন্যরকম একটা সিদ্ধান্তে ছিলাম। ভাবতাম এই জীবনে আর কোনদিন আমার জীবনে কেউ আসবে না। মনকে সেইভাবে স্থির করে রেখেছিলাম। অনেকটা এলোমেলোও বলতে পারো! কিন্তু আজ যখন তুমি এলে জীবনে, তখন আমার মন আবার অপেক্ষায় আছে, কবে তুমি আসবে! জানো তো অপেক্ষায় থাকাটা খুব কষ্টের। আর সেই কষ্ট একসময় বাঁধ ভেঙে জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু।

আমি চুপ করে রইলাম। আজ যেন, শাহেদ সেই বাঁধভাঙা জলের মতো ছুটে চলছে এলোমেলো।

`সাদিয়া, আমি আর পারছি না। যদি তুমি আর না আসো তাহলেও আমাকে বলে দাও। আমি আর অপেক্ষায় থাকবো না। রাখি! ভালো থেক।‘

ফোনটা বহুক্ষণ ধরে রাখলাম। দুচোখের পানিতে ভেসে গেল আমার মুখ। সত্যিই তো, এভাবে কেন আমি একজনকে অপেক্ষায় রাখবো?

তৃপ্তি আর আমি বসে আছি একটা রেস্তোরাঁয়। এখানকার খাবার মেয়েটা খুব পছন্দ করে। রেস্তোরাঁর পাশেই পার্ক আছে বিশাল লেক ঘেরা। এই লেকের পানিতে সাঁতার কাটে শুভ্র সাদা রাজহাঁস। নীল আকাশের নীচে সাদা হাঁসগুলো যেন পরীর মতো লাগে। আমি আর তৃপ্তি খাওয়া শেষে লেকের পাড়ে একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।

মামুনি! আজ তোমাকে একটা কথা বলবো। তুমি খুব ভেবে চিন্তে উত্তর দিও। আর সময় নিয়ে বলো, যতটা সময় তোমার দরকার!

বলো মম…

তুমি তো জানো, আমার জীবনে তুমিই ফাস্ট প্রায়োরিটি। তাই আমার সবকিছুই তোমার চাওয়ার ওপর নির্ভর করে।

এতো কিছু বলার পর যখন দেখলাম, মেয়ে চুপ হয়ে আছে তখন আমিও থেমে গেলাম। মনে হলো, কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছি না।

হঠাৎ তৃপ্তি বলে উঠলো, তুমি শাহেদ অংকেলকে বিয়ে করতে চাও?

আমি যেন বাজ পড়া মানুষের মতো শব্দহীন নিথর হয়ে গেলাম। পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো এতটা পরিপক্ব কথার জন্য আমি আদৌও প্রস্তুত ছিলাম না।

আমাকে আরও অপ্রস্তুত করে দিল মেয়ের দ্বিতীয় কথা।

`তুমি কি সম্পূর্ণ শিউর যে, সে আমাকে বাবার মতো টেক কেয়ার করবে, মম? একটা অপরিচিত লোক এন্ড আই নেভার সো দ্যাট ম্যান, সে কিভাবে আমাকে মেয়ে ভাববে? ইজ ইট পসিবল, আম্মু। বরং আমার মনে হয়, তুমি বিয়ে করলে আমাকে হোস্টেলে সিফট করতে হবে। আমি শুনেছি, এরকম অনেক মেয়ে আছে যারা স্টেপ ফাদার দিয়ে রেভিসড হয়েছে। শেষের কথাটা তৃপ্তি মাথা নুইয়ে আস্তে করে বললো।

কিন্তু আমার শুনতে একটুও অসুবিধা হলো না। আমি যেন একটা রক্তশূন্য প্রাণহীন পাথরে রুপান্তরিত হয়ে গেলাম। উঠে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফেরার শক্তিটুকু পাচ্ছিলাম না। কতক্ষণ বসে ছিলাম জানি না, তৃপ্তি আমাকে একটু ধাক্কা দিয়ে বললো, তুমি কি ভাবছো, মম? আমি কি কোনো ভুল বলেছি? আমি ওর দিকে তাকালাম, মেয়েটা এতোটা বড় কবে হলো! পাঁচ বছরের তৃপ্তিকে নিয়ে এদেশে এসেছিলাম। আজ এতোটা বছর কোনদিন ওকে আমি বাঙালি কালচারের বাইরে ভাবতে শেখাইনি। বাসায় সবসময় ওর সাথে বাংলায় কথা বলেছি। যাতে মেয়ের সাথে আমার দূরত্ব তৈরি না হয়। যাতে আমরা অন্তরে একই অনুভূতি ধারণ করতে পারি। অথচ, আজ আমার মেয়েকে আমারই সবচেয়ে অচেনা, অজানা মানুষ মনে হচ্ছে। ও জীবনের বাস্তব রূপ এতোটা বুঝে অথচ ওর মায়ের একাকিত্ব, ওর জন্য মায়ের স্বার্থত্যাগ, অবদান সেগুলো একবারও ভাবলো নাহ। আবার ওর কথাও ঠিক এবং রূঢ় বাস্তব। এলোপাতাড়ি চিন্তায় আমার মাথাটা টলে উঠলো। আমি কোনমতে বললাম, চল বাসায় ফিরি।

ফোনটা রেখে বসে রইলাম জানালার পাশে। শাহেদের সাথে কথা বলার পর বুকের ভেতর আটকে থাকা পাথরটা যেন সরে গেল। তৃপ্তির সব কথা শুনে শাহেদ চুপ করে ছিল অনেকক্ষণ। তারপর মৌনতা ভেঙে বললো, আমার তোমাকে ছাড়া চলবে না সাদিয়া। আমাদের যেমন চলছিল দিন তেমনই চলবে। একদিন দেখ তৃপ্তি আমাদেরকে এক করে দেবে। আর আমি সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম।

কিন্তু শাহেদ! তুমি কেন আমার জন্য তোমার জীবনটাকে নষ্ট করবে? তুমি তোমার জীবনটা গুছিয়ে নাও, দেখেশুনে বিয়ে করো।

`আমি তো এলেমেলো জীবনে ছিলাম সাদিয়া! তুমি এসে গোছগাছ করে দিলে সব। নষ্ট করা সময়গুলোকে আনন্দে ভরালে। এখন দূরে সরে গিয়ে যদি আবার আমার জীবনকে এলোমেলো করে নষ্ট করতে চাও, তাহলে চলে যেয়! আক্ষেপ করে বললো শাহেদ।

আমি আর কোথায় যাবো, বলো! এই জীবনে শুধু বিসর্জন দিতে এসেছি। এক জীবন দিলাম সৈকতের কাছে আর এখন দেব মেয়ের কাছে। আমার নিজের জন্য জীবনের কাছে কিছু চাওয়ার নেই বা ছিল না। আসলে স্বার্থপরের মতো নিজের জন্য আমি কিছু করতে পারলাম না। তবে ভবিষ্যতে আমিও চাইবো আমার জন্য। আমিও বেঁচে থাকবো তোমাকে পাওয়ার জন্য। আমি আছি তোমার জন্য, শাহেদ। জীবনটা যদি চলে না যায় তবে শেষ প্রান্তে এসে তুমি তোমার সাদিয়াকে পাবে। আমরা দু’জনে তবু ছেড়ে যাবো না কেউ কাউকে রেখে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x