বিধিনিষেধ শিথিলের দিনগুলোতে চলবেন যেভাবে

বিধিনিষেধ শিথিলের দিনগুলোতে চলবেন যেভাবে
ছবি: ডয়চে ভেলে

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত ১৫ জুলাই থেকে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে সবধরনের বিধিনিষেধ। গণপরিবহন-শপিংমল খুলে দেওয়ায় এ সময়টাতে যে যেভাবে পারছেন, ছুটছেন গন্তব্যের দিকে। ফলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, ২৩ তারিখের আগের এ কয়েকদিন খুব সতর্কতার সঙ্গে ও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে।

দেশে করোনায় আরও ২২৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২২৩৬ 

বিধিনিষেধ শিথিলের এই সময়টাতে সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। ইত্তেফাক অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি, এখনো বলছি, সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে। উৎসবে অনেকে মিশতে চাইবে। খুব প্রয়োজন ছাড়া সেটা করা যাবে না। ঘর থেকে বাইরে বের হলে তিন থেকে চার হাত সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। যদি কোনো ভিড়ে যেতে হয়, তাহলে অবশ্যই ভালোভাবে হাত না ধোয়া পর্যন্ত চোখ, মুখ ও নাখ এসব জায়গায় স্পর্শ করা যাবে না।

আর যারা কোরবানি দেবেন তাদেরকেও কিছু নিয়মের মধ্যে যেতে হবে। অল্প সংখ্যক মানুষ দিয়েই কোরবানির কাজটি শেষ করার চেষ্টা করতে হবে এবং এ সময় সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে যেসব অঞ্চলে সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী, সেসব অঞ্চলে করোনার পরীক্ষা সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে কমিটি করে এবং মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পড়ার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যাদের মাস্ক কেনার সামর্থ্য নেই, প্রধামন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করে তাদের জন্য কাপড়ের মাস্কের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে যারা চিকিৎসাধীন কিংবা আইসোলেশনে রয়েছেন, তাদের প্রতি সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এসব নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলতে পারলে শীঘ্রই দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করি।

‘টিকা নিলেও যতদিন করোনা থাকবে, ততদিন মাস্ক পরতে হবে’

দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সরকার বীমা, শেয়ারবাজার, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা চালু রেখেই গত ১ জুলাই থেকে সাতদিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। দেওয়া হয় ২১টি নির্দেশনা। পরবর্তীতে সেই বিশিনিষেধ গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে সেই মেয়াদ শেষে ঈদকে সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শীতল করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই থেকে আবারো কঠোর বিধিনিষেধ জারির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x