দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়ালো

দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়ালো
করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি। ছবি: ইত্তেফাক

দেশে আটকানো যাচ্ছে না করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। মাঝে সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে দেশে ভাইরাসটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। সে হিসেবে বর্তমানে সংক্রমণের হার দৈনিক প্রতিদিনই প্রায় ৩০ শতাংশের মতো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা ভাইরাসের নিয়মিত বুলেটিনে দেখা যায়, ১৮ জুলাই দেশে ভাইরাসটিতে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৭৮ জন। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৮৯ জন।

এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে গত ১২ জুলাই সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর ১১ জুলাই সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। সেই সঙ্গে গত ১১ জুলাই থেকে প্রতিদিনই দুই শতাধিক ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

এ পর্যন্ত দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ৮৯৪ জন। যেখানে ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭ হাজার ৮৯৪ জন যার মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৯৩ জন। যেখানে মৃত্যুহার ৪৮ দশমিক ০২ শতাংশ।

ঢাকার পর চট্টগ্রামে ৩ হাজার ২৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে যেখানে মৃত্যুহার ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এরপর খুলনায় ২ হাজার ২০২ জন, রাজশাহীতে ১ হাজার ৩৯০ জন, রংপুরে ৮৪২ জন, সিলেটে ৬৩৪ জন, বরিশালে ৫৩৪ জন ও ময়মনসিংহে ৪৪৩ জন।

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হিসেবে শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৯ জুলাই পর্যন্ত) বিশ্বে যে সব দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। আর নতুন রোগী শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতেও ঈদকে সামনে রেখে আগামীকাল ১৫ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে দেশব্যাপী চলবে গণপরিবহন, খোলা থাকবে দোকানপাট ও শপিংমল।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সবাইকে টিকার আওতায় আনতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশটিতে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য গন টিকাদান শুরু করেছে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x