আগাম জামিনে শুনানির বাধা দূর

ডেথ রেফারেন্সসহ সব ধরনের মামলার বিচার শুরু কাল
আগাম জামিনে শুনানির বাধা দূর
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর আবারও উচ্চ আদালতে শুরু হচ্ছে আগাম জামিনের জন্য শুনানি। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে ডেথ রেফারেন্সসহ সব ধরনের মামলার বিচার। বুধবার থেকে শারীরিক ও ভার্চুয়াল দুই পদ্ধতিতেই এই বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ৫৩টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করে দিয়েছেন। পুনর্গঠিত বেঞ্চগুলোর মধ্যে ১৮টিতে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। ৩৫টি বেঞ্চে বিচার চলবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। করোনাকালে দীর্ঘদিন পর বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরুর মধ্য দিয়ে কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে সুপ্রিম কোর্টে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, করোনায় দীর্ঘ পাঁচ মাস শারীরিক উপস্থিতিতে হাইকোর্টে বিচারকাজ বন্ধ ছিল। স্বল্প পরিসরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালিত হলেও বন্ধ ছিল আগাম জামিনের শুনানি। ফলে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে বিচারপ্রার্থীদের। কিন্তু বর্তমানে ফৌজদারি মোশন মামলা শুনানির জন্য বেশ কিছু ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ায় আগাম জামিন শুনানির বাধা দূর হয়েছে। শুধু আগাম জামিন শুনানিই নয়, ডেথ রেফারেন্স মামলা শুনানির জন্য তিনটি ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এর ফলে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাগুলোর বিচারের দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

গত মার্চ মাসে দেশে করোনা ভাইরাস রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তী সময় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল কোর্টের বিচারকাজ। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে চালু করা হয় ভার্চুয়াল কোর্ট। ঐ ভার্চুয়াল কোর্টে হাজতি আসামির জামিনসহ রিট মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু ভার্চুয়াল কোর্টে আগাম জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ না করায় হয়রানি ও দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিচারপ্রার্থীদের।

গত ৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ঐ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি বুধবার থেকে হাইকোর্টে দুই পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেন। ঐ সিদ্ধান্ত মোতাবেক শারীরিক উপস্থিতিতে ১৮টি বেঞ্চের মধ্যে ১৩টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং পাঁচটি একক বেঞ্চে বিচার চলবে। আর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ৩৫টি বেঞ্চের মধ্যে বিচার হবে ২৪টি ডিভিশন বেঞ্চ ও ১১টি একক বেঞ্চে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব বেঞ্চে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার হবে সেখানে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত