বদির বিচার কার্যক্রম শুরু

বদির বিচার কার্যক্রম শুরু
আব্দুর রহমান বদি। ছবি: ফাইল

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজ দখলে রাখা ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) দায়ের করা মামলায় টেকনাফ-উখিয়া আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির বিচার শুরু হয়েছে। রবিবার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইসমাইল হোসেন তার বিচার শুরুর আদেশ দেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দেশের আলোচিত-সমালোচিত সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি।

আগামী ১৫ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, নানা কারণে আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা মামলার বিচার শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। অবশেষে রবিবার মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। এখন তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও পরে যুক্তিতর্ক শুনানি হয়ে এ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। ওই সময় বদি টেকনাফ পৌরসভার মেয়র ছিলেন।

দুদক আইনের ২৬/২ ও ২৭/১ ধারা অনুযায়ী আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মামলাটির মধ্যে ২৬/১ ধারায় ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৯ টাকা ৫৩ পয়সা সম্পদের তথ্য গোপন ও ২৭/১ ধারায় ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৪১৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজ দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদের করা মামলা তদন্ত করে দুদকের আরেক উপ-পরিচালক আলী আকবর ২০০৮ সালে টেকনাফের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

আবদুর রহমান বদি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য। ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে তুমুল সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। সেই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী।

এদিকে, তার বিচার প্রক্রিয়া শুরুর খবর প্রচার পাবার পর তা ‘টক অব দ্যা কক্সবাজারে’ পরিণত হয়েছে। সবখানেই তার মামলার আদ্যপান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। সরব হয়ে পড়েছে তার নির্বাচনী এলাকা উখিয়া-টেকনাফও। সবার দৃষ্টি এখন চট্টগ্রামের বিশেষ আদালতে নিবন্ধিত রয়েছে। যুক্তি তর্কে কি আসছে তা জানতে গণমাধ্যমে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন সব শ্রেণী পেশার মানুষ।

উল্লেখ্য, বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারক না থাকায় জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ আদালতে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত