বুড়িগঙ্গার দূষণ বন্ধে রায় বাস্তবায়ন না করায় ওয়াসার এমডিকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

বুড়িগঙ্গার দূষণ বন্ধে রায় বাস্তবায়ন না করায় ওয়াসার এমডিকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট
বুড়িগঙ্গার দূষণ বন্ধে রায় বাস্তবায়ন না করায় ওয়াসার এমডিকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট। ছবিঃ প্রতীকী

রাজধানীর শ্যামপুরে অবস্থিত শিল্প কারখানার বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে নি:সরন বন্ধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। গত মার্চ মাসে আদালতে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন না করায় তাকে সতর্ক করেছে হাইকোর্ট।

আদালত বলেছে, বার বার সময় নিয়েও রায় বাস্তবায়ন করা করা উচ্চ আদালতের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল। আমরা মনে করি ওয়াসার এমডি ইচ্ছাকৃতভাবে রায় প্রতিপালন করছেন না। বারবার এফিডেভিড দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন। এজন্য তাকে সতর্ক করা হলো। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে রায় বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর শ্যামপুরে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে বর্জ্য নি:সরণ বন্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ওই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে ওয়াসার এমডিকে ছয় মাসের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীতে কারখানার বর্জ্য নি:সরণ লাইন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু গত নয় বছরেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন দেয় রিটকারী পক্ষ। ওই আবেদনের উপর দেয়া এক আদেশে গত ৪ মার্চ হাইকোর্টে হাজির হয়ে রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওয়াসার এমডি। কিন্তু গত দুটি ধার্য তারিখে তার পক্ষে দুটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কিন্তু আদালত তা গ্রহণ না করে রায় বাস্তবায়নে আবারো সময় দেয়।

আরো পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ,আহত ১২

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ মামলার শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী উম্মে সালমা আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় থাকা হাজারীবাগের চারটি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নি:সরণ লাইন বন্ধ করা হয়েছে। বন্যার কারণে শ্যামপুরে অভিযান পরিচালনা করা যায়নি। এছাড়া ওয়াসার চারজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে মনজিল মোরসেদ আদালতে বলেন, শ্যামপুরের কোথাও বন্যা নাই। এছাড়া হাজারীবাগের চারটি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নি:সরণ লাইন বন্ধ করা হয়েছে তা হাইকোর্টের আদেশে ছিলো না। অতএব এই প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে প্রমাণিত হয় ওয়াসার এমডি আদালতের রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, নয় বছর অতিক্রান্ত হলেও রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করায় বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধ হচ্ছে না। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওয়াসার ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে এমডিকে সতর্ক করে দেয়। একইসঙ্গে আগামী ১৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদালত।

বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ

বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাশে নদী ও নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে যে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ইতিমধ্যে ফেলা হয়েছে তা ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ থানার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। মনজিল মোরসেদের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল এই আদেশ দেন। আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে এডভোকেট আমাতুল করিম শুনানি করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত