হাইকোর্টে তথ্য গোপন করে জোড়া খুনের মামলার ৭ আসামির জামিন

হাইকোর্টে তথ্য গোপন করে জোড়া খুনের মামলার ৭ আসামির জামিন
ফাইল ছবি

তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে জামিন হাসিল করেছেন খুলনার তেরখাদার জোড়া খুন মামলার সাত আসামি। মামলার তিন আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকলেও তা জামিন আবেদনে গোপন করা হয়েছে। মামলার এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন আসামিরা।

পরে তথ্য গোপন করে জামিন পাওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নজরে এনে জামিন আদেশ রিকল (প্রত্যাহার) এর আবেদন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এম. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ ইত্তেফাককে বলেন, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকার পরেও এই তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার বিষয়টি নজরে আসায় আসামিদের জামিন বাতিলের পাশাপাশি গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের নির্দেশনা চেয়েছি। একইসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছি।

গত বছরের ৭ আগস্ট খুলনার তেরখাদায় পূর্ব শত্রুতার জেরে নাঈম শেখ (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হন নিহতের বাবা হিরু শেখ (৫৫)। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় পরদিন তেরখাদা থানায় ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যে ওই মামলায় তেরখাদার ইউপি চেয়ারম্যান এম দীন ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এই মামলার তিন আসামি শেখ সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ও খালিদ শেখ নিজেদেরকে খুনের সঙ্গে জড়িয়ে ওই বছরের আগস্ট মাসে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর খুলনার জেলা ও দায়রা জজ এই মামলার আসামিদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। পরে তারা গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন চান। ওই জামিন আবেদনে তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়। আসামিদের পক্ষে মামলাটি শুনানি করেন আইনজীবী এমএ শহীদ চৌধুরী। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করে। পরে কারাগার থেকে তারা মুক্তি পান। এই সাত আসামি হলেন, শেখ সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, খালিদ শেখ, ইস্কান্দার শেখ, জমির শেখ, জিয়ারুল শেখ ও আব্বাস শেখ।

যেভাবে তথ্য গোপনের বিষয়টি ধরা পড়ল:

এই মামলার সাত আসামির জামিন প্রাপ্তির বিষয়টি জানার কারাবন্দি অপর কয়েক আসামি হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে জামিন চান। তাদের জামিন আবেদনে মামলার ঐ তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান ও সাত আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরপর বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি বিষয়টি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদকে অবহিত করেন। পরে তিনি নথি যাচাই করে বিষয়টি বেঞ্চের বিচারপতিদের নজরে আনেন এবং আদেশ রিকলের আবেদন জানান। পরে হাইকোর্ট রবিবার শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে।

সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, আসামি পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত