১৯৯৫ সালে ইয়াসমিনকে গণধর্ষণ ও হত্যা সংশ্লিষ্ট মামলা কতদূর?

১৯৯৫ সালে ইয়াসমিনকে গণধর্ষণ ও হত্যা সংশ্লিষ্ট মামলা কতদূর?
ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৫ সালের ৪ আগস্ট কিশোরী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নৈশকোচে দিনাজপুরের দশমাইল মোড় এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় কোতোয়ালি পুলিশের টহল দল তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পিকআপ ভ্যানে তুলে নেয়। পথে তিন পুলিশ সদস্য কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।। পরদিন বর্বরোচিত এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় পুলিশের গুলিতে সাতজন প্রাণ হারান। আহত হন কমপক্ষে শতাধিক।

ইয়াসমিন হত্যা মামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে দুই জনকে ১৯৯৭ সালে গ্রেফেতার করা হয়। অমৃত লাল নামক আরেক অভিযুক্ত মামলার রায় প্রকাশের বহুদিন পর গ্রেফতার হয়। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরে ইসমিন হত্যার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যের ফাঁসি কার্যকর হয়। এছাড়া আন্দোলনকারী দিনাজপুরবাসীর ওপরে গুলি চালানোর অপরাধে তত্কালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিত্সকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা বর্তমানে দিনাজপুর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে অতীতের চেয়ে বর্তমানে এই ধরণের মামলাগুলো অনেক গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নের্তৃত্বে বাংলাদেশের নারীরা যখন সব ধরনের পেশায় পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে দক্ষতা-যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে অর্থনৈতিক সূচকে দ্রুতগতিতে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় নারীরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। নারী ও শিশুরা পরিবারের সদস্য, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী, রাস্তাঘাটে পথচারী, পরিচিতজন, প্রতিবেশী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্বারাও নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

এরপরও কি নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা এবং নির্যাতনের চিত্র পাল্টেছে কি? করোন দুর্যোগের সময় নারী ও কন্যা অধিক হারে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে ধর্ষণ ও নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ। দেশের বিভিন্ন স্থানেও একই দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের শাস্তি বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে শাহবাগ, মতিঝিলসহ রাজধানীর কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলন করছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী নির্যাতন আইনের সংশোধন খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

ঘটনা পরিক্রমা : নারী ও শিশু নির্যাতন

পরবর্তী
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত