হাইকোর্টের সেই রায়ের পর্যবেক্ষণ ও কতিপয় আদেশ কর্তন করল আপিল বিভাগ

হাইকোর্টের সেই রায়ের পর্যবেক্ষণ ও কতিপয় আদেশ কর্তন করল আপিল বিভাগ
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি।

'সরকার বনাম চেয়ারম্যান, ১ম কোর্ট অব সেটেলমেন্ট ও অন্যান্য' মামলার রায়ে বিচারক, আদালত ও বিচার বিভাগ নিয়ে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের দেয়া পর্যবেক্ষণসমূহ কর্তন করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল বেঞ্চ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঐ রায়ের পর্যবেক্ষণসমূহ ও আদেশের কতিপয় অংশ কর্তন করেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান।

'সরকার বনাম চেয়ারম্যান, ১ম কোর্ট অব সেটেলমেন্ট ও অন্যান্য' মামলায় প্রথম সেটেলমেন্ট আদালতের দেয়া রায় সম্পর্কে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ নানা পর্যবেক্ষণ দেন। দ্বৈত বেঞ্চের ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বশেষ জায়গা তথা শেষ আশ্রয়স্থল হলো বিচার বিভাগ। যখন এই শেষ আশ্রয়স্থলের বিচারকগণ দুর্নীতির মাধ্যমে রায় বিক্রি করেন, তখন সাধারণ মানুষের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। তাঁরা হতাশ হন, ক্ষুব্ধ হন, বিক্ষুব্ধ হন এবং বিকল্প খুঁজতে থাকেন। তখন জনগণ মাস্তান, সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন মাফিয়া নেতাদের আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং তাঁদের বিচার সেখানে চান। সুতরাং এখন সময় এসেছে জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করা। নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য এবং আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা রায়ে বলা হয়েছে, আমাদের সমাজে, বুদ্ধিজীবী মহলে, পত্র-পত্রিকায় এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য খবর, প্রতিবেদন লেখা বা ছাপা হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ বিচারকদের (নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত) কিভাবে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট প্রতিবেদন, লেখা বা গবেষণা দেখা যায়নি।বিচার বিভাগের সকল বিচারকদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে প্রথমেই দুর্নীতিবাজ বিচারকদের চিহ্নিত করে দ্রুততার সাথে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত