অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপিল শুনানির উদ্যোগ প্রধান বিচারপতির

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপিল শুনানির উদ্যোগ প্রধান বিচারপতির
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন [ফাইল ছবি]

সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও তার দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। ২০০৭ সালের দেওয়া ফাঁসির ঐ রায়ের পর থেকেই তারা আছেন কারাগারের কনডেম সেলে। হাইকোর্ট ২০১২ সালে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। গত আট বছরে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা সংশ্লিষ্ট শাখায় পড়ে ছিলো। গত সপ্তাহে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তিন ফাঁসির আসামির আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

হত্যা মামলায় যুগ যুগ ধরে কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনা এসব আসামির আপিল নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সম্প্রতি আদালত অবমাননা সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিকালে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জরুরি ভিত্তিতে অনেক মামলা শুনানির জন্য আবেদন জানান। আমরা সেগুলো গ্রহণও করেছি। পরে দেখতে পেলাম এরফলে অনেক পুরনো আপিল নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যার কারণে ফাঁসির আসামিরাও বছরের পর বছর ধরে কনডেম সেলে পড়ে আছেন। বছরের পর বছর ধরে কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এমন আসামিদের আপিল পর্যায়ক্রমে শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শুধু ফৌজদারি মামলা নয়, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা দেওয়ানি মামলার আপিলও এখন দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এইসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণ ন্যায় বিচার পাবেন। তাদেরকে আর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হবে না। মামলার জটও হ্রাস পাবে।

সুপ্রিম কোর্ট হতে প্রাপ্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে আপিল বিভাগে ১৫ হাজার ৪৬০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৩টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হাইকোর্টে ১ হাজার ৩৯৯টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব ডেথ রেফারেন্সে যাদের ফাঁসি ও যাবজ্জীবন বহাল রয়েছে তারা আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। পর্যায়ক্রমে এসব আপিলের শুনানি গ্রহণ করে নিষ্পত্তির আদেশ দিচ্ছেন আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চের বিচারপতিরা। সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার এ ধরনের আপিল (ফৌজদারি ও দেওয়ানি) নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সেই মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার দেওয়ানি মামলার একটি পুরনো আপিল নিষ্পত্তি করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ। এরফলে ৩৬ বছর ধরে বেদখল থাকা ২৭ একর আয়তনের একটি পুকুরে মালিকানা সরকার ফিরে পেয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

ঢাকা ল’রিপোর্টস (ডিএলআর) এর সম্পাদক অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, আপিল ও সিভিল পিটিশনগুলো এখন ভালোভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এভাবে নিষ্পত্তি হতে থাকলে আপিল বিভাগের মামলা জট কমে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নিশ্চয়ই ভালো মনে করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তি হবে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত