মিথ্যা মামলা করে আসামিকেই বিয়ে করতে চান ভিকটিম

এক বিয়ে নিয়ে মিডিয়া তোলপাড়, আরেক বিয়ে আদালতের সামনে: হাইকোর্ট
মিথ্যা মামলা করে আসামিকেই বিয়ে করতে চান ভিকটিম
প্রতীকী ছবি

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে পারভেজ নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। দুটি মামলাই করেন বিবাহিত এক তরুণী। স্বামীর প্ররোচনায় তিনি এই মামলা করেন। এখন নিজের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ঐ তরুণকে বিয়ে করতে চান। হাইকোর্টে হাজির হয়ে তিনি আদালতকে এ কথা জানান। এমনকি আসামি জামিন পেলেও কোনো আপত্তি নেই তার।

হাইকোর্ট তখন বলেন, ‘এক বিয়ের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া তোলপাড়, আরেক বিয়ে আদালতের সামনে।’ বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় ঐ তরুণকে আগাম জামিন দেয় হাইকোর্ট।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারায় এবং ধর্ষণকালে আপত্তিকর ছবি ধারণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)(২) ধারায় দক্ষিণখান থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন বিবাহিত ঐ তরুণী। গত ২০ জানুয়ারি দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মামলার আসামি আমার স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের বন্ধু। সেই সুবাদে সে আমাদের বাসায় যাতায়াত করত। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে আমাকে ধর্ষণ করে। ঐ সময়ে আমার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে সে।

দুটি মামলায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন চান আসামি পারভেজ। এর মধ্যে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলার শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে মামলা দুটির বাদী ঐ তরুণী আদালতকে জানান, আসামি জামিন পেলে আপত্তি নেই। তখন দুটি মামলায় অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাত্ক্ষণিক আবেদনটি না শুনে বিকালে শুনানির জন্য রাখেন। একই সঙ্গে বাদী ও বিবাদীকে আদালত কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখেন। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর বিকালে ঐ জামিন শুনানি হয়। শুনানিতে আসামির আইনজীবী এস এস আরেফিন জুন্নন বলেন, বাদী তার স্বামীর প্ররোচনায় এই মামলা করেছেন। স্বামীকে সে তালাকনামাও পাঠিয়েছে। বাদী ও বিবাদীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

এ পর্যায়ে বাদীর উদ্দেশ্যে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, কেন মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন? মিথ্যা মামলা দায়ের করায় এখানে আরেকটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। বাদী বলেন, ‘আমার স্বামী জোরপূর্বক আমাকে দিয়ে এই দুটি মামলা করিয়েছে।’ জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘আপনাকে তো এখন ঐ স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে? নইলে মিথ্যা মামলার খেসারত আপনাকে দিতে হবে। নইলে দুই জনকেই ফাঁসতে হবে। এ পর্যায়ে বাদীকে উদ্দেশ্যে করে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, আপনি আপনার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। এখন এই তরুণের সঙ্গে ঘর করতে চান। আপনি কি মনে করেন বর্তমানের মতো ভবিষ্যতে আপনার সঙ্গে এরকম ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে।’

তখন নিশ্চুপ ছিলেন বাদী। তবে আসামির আইনজীবী বলেন, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি কিন্তু সম্ভব হয়নি। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাসিরের বিয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে।’ জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘এক বিয়ে নিয়ে দেশের মিডিয়া তোলপাড়, এখন আরেক বিয়ে আদালতের সামনে। নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে।’ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আসামিকে জামিন দেয়।

ডিএজি মনিরুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য দুই জনকে দাঁড় করিয়ে রাখে। একই সঙ্গে বাদীকেও সতর্ক করেছে হাইকোর্ট।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x