যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র

আলোচিত তিন বন্দি খুনে সম্পৃক্ত ১২ জন

আলোচিত তিন বন্দি খুনে সম্পৃক্ত ১২ জন
ছবি: সংগৃহীত

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আলোচিত তিন বন্দিকে নির্যাতন করে হত্যা এবং আরো ১৫ জন আহতের মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তদন্তে নির্মম ঐ ঘটনার সঙ্গে ১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাসহ আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং বাকি চার কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে।

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় একজন প্রশিক্ষককে এই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রোকিবুজ্জামান। তবে নূর ইসলাম নামে যে হেডগার্ডকে কেন্দ্র করে ঐ ঘটনার সূত্রপাত। তার বিরুদ্ধে তদন্তে নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত বছর ১৩ আগস্ট দুপুরে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বন্দিদের নির্মম নির্যাতনে তিন বন্দি নিহত ও আরো ১৫ জন আহত হয়।

সূত্র জানায়, গত বছর ৩ আগস্ট হেড গার্ড নূর ইসলাম তার চুল কাটার জন্য মোস্তফা কামাল হূদয় ও পারভেজকে ডেকে পাঠান। এ সময় পাভেল অসুস্থতার কথা বলে চুল কাটতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে মনক্ষুণ্ন হন হেডগার্ড নূর ইসলাম। মোস্তফা কামাল হূদয় ও পাভেল নেশা করে বেডে শুয়ে আছে বলে নূর ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেন। আর এই অভিযোগ দেওয়ার সময় আহত ১৫ জনের মধ্যে একজন শুনে ফেলে বলে মোস্তফা কামাল ও পাভেলকে জানায়। এতে রাগান্বিত হয়ে ঐদিন বিকেল ৫টার দিকে মোস্তফা কামাল ও পাভেলসহ কয়েক জন কিশোর মিলে হেডগার্ড নূর ইসলামকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। পাশাপাশি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বন্দি কিশোররা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল লাইচ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান এবং কেন্দ্রের উপপরিচালক অসিত কুমার সেখানে গিয়ে কিশোরদের শান্ত করেন। পাশাপাশি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক শেখ তাসমিম আলম শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের আইনের আশ্রয় গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।

এই পরিবেশের মধ্যে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আলোচনা শেষে নূর ইসলামকে মারপিট করা কিশোরদের শাসন করার কথা বলেন সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ঐদিনই শরীরচর্চা শিক্ষক এম শাহানুর আলম তার অনুগত মোহাম্মদ আলী, খালিদুর রহমান তুহিন, ইমরান হোসেন, হুমাইদ হোসেন, রিফাত হোসেন, আনিসুজ্জামান, পলাশ ও মনোয়ারসহ কয়েক জন কিশোরকে ডেকে আনেন। এরপর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিহত ও আহতদের বাছাই করে এডি আব্দুল্লাহ আল মাসুদের কক্ষে আনা হয়। এ সময় এডি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আরমান খলিফা নামে এক বন্দি কিশোরকে চড়থাপ্পড় ও লাথি মারেন। পরে তাকে বের করে শরীরচর্চা শিক্ষক এম শাহানুর আলম তাদের স্টোররুমের পাশে জানালার গ্রিলের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বাইরে থেকে ধরে রাখেন এবং মারপিট করা হয়।

এভাবে মারপিটে পারভেজ হাসান রাব্বি, নাইম হোসেন ও রাসেল সুজন মারা যায়। আর ছোট হূদয়, আব্দুল্লাহ আল মাহিম, পলাশ, সাব্বির হোসেন, সাব্বির প্রামানিক, নাঈম খান, মারুফ ওরফে ঈশান, পাভেল, জাবেদ হোসেন, আরমান খলিফা, লিমন, মোস্তফা কামাল হূদয়, সাকিব আলী ও রূপক আহত হয়।

এ ঘটনায় নিহত পারভেজ হাসান রাব্বির পিতা রোকা মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

ইত্তেফাক/এসসিএস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x