৫০ হাজার শিক্ষকের টাইম স্কেল সংক্রান্ত রিট খারিজ

৫০ হাজার শিক্ষকের টাইম স্কেল সংক্রান্ত রিট খারিজ
ছবি: সংগৃহীত

২০১৩-২০১৪ সালে বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’-এর সুবিধা ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদনের উপর জারিকৃত রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রিট আবেদনকারীদেরকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) এই রায় দেন। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কয়েকশত শিক্ষক জড়ো হয়েছিলেন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে। তারা প্রত্যাশা করেছিলেন রায় তাদের পক্ষে আসবে। এজন্য ফুলের কিছু তোড়া নিয়ে এসেছিলেন শিক্ষকরা। রায় পক্ষে আসলে আইনজীবীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্ভাষণ জানানো হবে। কিন্তু রায়ে শিক্ষকদের রিট আবেদন খারিজ হয়ে গেলে ফুলের তোড়াগুলো আদালত প্রাঙ্গণেই পড়ে থাকে। শিক্ষকরাও আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় বলেন, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ফেরত দিতে জারিকৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ২৭২ জন শিক্ষক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। সেখানে প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়েছে। রিট আবেদন খারিজের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছে, এটা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিষয়। এই বিষয়ে রিট আবেদন চলে না। এ কারণে রিট খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

রিটকারীদের আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম বলেন, রায়ে হাইকোর্ট বলেছে রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত বিষয়টা নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে বলেছে।

গত বছরের ১২ আগস্ট ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ঐ পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহীর গাঙ্গোপাড়া বাগমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক।

ঐ দিনই আবেদনের উপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ছয় মাসের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঐ জারিকৃত পরিপত্র কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। ঐ স্থগিতাদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন রিটকারী পক্ষ। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশের পর জারিকৃত রুলের উপর হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে গতকাল রিট খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x