নোটারি কী এবং কেন করবেন?
প্রশ্ন হতে পারে নোটারি কী? আর এটার প্রয়োজনটাই কী? সাদামাটা উত্তর হলো- আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা দলিল কিংবা কাগজপত্রাদি ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারিভাবে সত্যায়িত করাকেই নোটারি বা নোটারি পাবলিক বলা হয়।
কোনো দলিল বা কাগজকে নোটারি করা হলে ধরে নেওয়া হয় সেটি সঠিক। আর আইনগতভাবেও এর সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে ভুয়া নোটারির ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে। যেন কোনো প্রতারণার ফাঁদে না পড়তে হয়। নোটারি অধ্যাদেশ এবং নোটারি বিধিমালা, ১৯৬৪ দ্বারা বাংলাদেশে নোটারি পাবলিকের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়।
আদালতে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে কোনো কাগজপত্রাদি বা ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে হলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই নোটারি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে এই নোটারি বাধ্যতামূলক।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জন্ম-মৃত্যুর সনদপত্র, বিদেশ ইমিগ্রেশনের কাগজপত্র, জমি-জমা সংক্রান্ত, দলিল দস্তাবেজ, হলফনামা, বিবাহ বিচ্ছেদ, গাড়ি বেচাকেনা, চারিত্রিক সনদপত্র ইত্যাদি বিষয়ে নোটারি পাবলিক দিয়ে সত্যায়িত বা প্রত্যায়িত করা হয়।
আমরা অনেকেই মনে করি নোটারি পাবলিক করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আসলে ধারণাটি ভুল। সরকার নির্ধারিত ফি সত্যায়নের কাজে ১০ টাকা, আর যেকোনো স্ট্যাম্পে হলফনামা বা চুক্তির ক্ষেত্রে ২০-২৫ টাকা।
আইন পেশায় ৫ থেকে ৭ বছর নিয়োজিত আছেন অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছর নিয়োজিত আছেন কিংবা সরকারের আইন প্রণয়ন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নোটারি করে থাকেন। নোটারি বিধিমালা (৬০-ক) অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের জন্য নির্দিষ্ট কার্যালয় থাকতে হবে।
তবে নোটারি করার ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অনেক সময় ভুয়া নোটারিরা ফুটপাতে বা দোকানে বোর্ড টাঙিয়ে বসে থাকে। এদের মাধ্যমে নোটারি করা হলে ভুয়া প্রমাণিত হতে পারে।
ইত্তেফাক/ইউবি


