করোনায় তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছে বিচারপ্রার্থীরা 

১৪ কার্যদিবসে জামিনে মুক্তি পেয়েছে ২৪ হাজার ৫৯৪ হাজতি
করোনায় তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছে বিচারপ্রার্থীরা 
হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর লকডাউনের আওতায় দেশ। জরুরি সেবা ছাড়া বন্ধ সবকিছুই। কিন্তু বন্ধ হয়নি দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন আদালত। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে চলছে কোর্টসমূহ। এতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীরা মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে বজায় থাকছে সামজিক ও শারীরিক দূরত্ব। থাকছে না করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি।

এদিকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম চলছে। চলছে হাইকোর্টের নয়টি বেঞ্চের বিচার কাজ। এসব বেঞ্চ জামিন ও রিট সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করছে। তবে বন্ধ রয়েছে আগাম জামিন আবেদনের শুনানি। এছাড়া আপিল বিভাগ নিষ্পত্তি করছে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন আবেদনসমূহ। আর নিম্ন আদালতে চলছে জামিনসহ বিভিন্ন নালিশি আবেদনের শুনানি। গত পাঁচ কার্যদিবসে অধস্তন আদালত থেকে জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার হাজতি। যারা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারাগারে ধারণ ক্ষমতার অধিক বন্দি থাকে সবসময়। কারাগারে বন্দিদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বন্দির চাপ কমাতে বন্দির জামিনের বিষয়টি নমনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অধস্তন আদালতে জামিন আবেদন ছাড়াও অতীব জরুরি ফৌজদারি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছেন বিচারকরা।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু। তখনই সরকার লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের রক্ষায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকার ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ জারি করে। এই অধ্যাদেশ জারির পরই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধস্তন আদালতে জামিন সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। জারি করা হয় সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্র্যাকটিস ডাইরেকশন। অধস্তন আদালতের পর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচার কার্যক্রম। গত দশ মাস ধরে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে বিচার কাজ চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। এরমধ্যে চলতি মাসে ঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যে আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে বিচার কাজ চলছে। উক্ত বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া বিভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এতে আইনজীবীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন।

সিঙ্গাপুর থেকে মামলার শুনানি:

ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করায় আপিল বিভাগে একটি সিভিল মামলায় সিঙ্গাপুর থেকে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। এসময় তার বিপক্ষের কৌসুলি সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল শুনানি করেন বাংলাদেশ থেকেই। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা। শুধু সিঙ্গাপুর নয় দেশের বাইরে থেকে অনেক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে তার মক্কেলের পক্ষে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন।

করোনাকালে মুক্ত ৯৬ হাজার হাজতি:

করোনাকালে ৯৬ হাজার হাজতি বন্দি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসে ঘোষিত কঠোর লকডাউনের গত ১৪ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল কোর্ট কর্তৃক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৯৪ জন হাজতি। এ সময় জামিন আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫ হাজার ২২৭টি।

এদিকে গত বছরের করোনাকালে ১১ মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবসে এক লাখ ৪৭ হাজার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে ভার্চুয়াল কোর্ট। এর মধ্যে ৭২ হাজার ২২৯ জন হাজতিকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল বিচারকরা। সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x