বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষ: তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

কেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত নয় প্রশ্ন আদালতের, নিহতদের ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ
বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষ: তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত দুইটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এ রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। পৃথক দুটি রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (৪ মে) এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে এ ঘটনার তদন্তে কেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দ্রূত এই অর্থ দিতে এস আলম গ্রূপকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি ৩ কোটি এবং আহতদের পরিবার প্রতি ২ কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ প্রদান নয় তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে এস আলমের আইনজীবী আরশাদুর রউফ বলেন, আমরা তো তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। আদালত বলেন, তিন লাখ খুবই সামান্য টাকা। আপাতত আরও দুই লাখ টাকা দিবেন।

শ্রমিক ও গ্রামবাসীকে হয়রানি না করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বাঁশখালী ঘটনায় সেখানকার শ্রমিক ও গ্রামবাসীকে হয়রানি না করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কোম্পানির পক্ষ থেকে করা দুটি মামলায় তিন হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করায় হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে এস আলম গ্রূপের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যাপারে এস আলম গ্রূপ কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। রিটের শুনানিকালে আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে এস আলমের আইনজীবী বলেন, আমরা আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এরপরই হাইকোর্ট প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ঐ ঘটনায় হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সৈয়দা নাসরিন শুনানি করেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানা যায়, রমজান মাসে শ্রমঘণ্টা ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ১০ ঘণ্টা করা এবং মার্চ মাসের বেতন প্রদানসহ প্রতিমাসের ৫ তারিখে বেতন প্রদানের দাবিতে গত শুক্রবার থেকে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিকরা। এ নিয়ে গতকাল সকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বয়কারী মো. হাদিলের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা চলাকালে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এ সময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ঐ পাঁচ শ্রমিক প্রাণ হারান। এছাড়া আহত হন আরও অর্ধশতাধিক শ্রমিক। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিল্পগ্রুপ এস আলমের মালিকানায় এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে এই বিদ্যুকেন্দ্রটি নির্মাণ হচ্ছে। একটি চীনা কোম্পানি এখানে অর্থায়ন করেছে। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান, এস আলম গ্রুপ ক্ষতিপূরণের টাকা ও হতাহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছিল। এর কিছুদিন পর আবারও সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক জন নিহত হন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x