করোনাকালে জামিনে মুক্তি পেলো লাখ হাজতি

বন্দির চাপ কমেছে কারাগারে
করোনাকালে জামিনে মুক্তি পেলো লাখ হাজতি
হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

করোনাকালে স্বল্প পরিসরে চলছে আদালতের কার্যক্রম। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলা আদালতের কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম ছিলো বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় কারবন্দি আসামির জামিন শুনানি ও নিষ্পত্তি করা। সেই কার্যক্রমের আওতায় দেশের আদালতসূমহ থেকে করোনাকালে জামিন পেয়েছেন লাখ আসামি। যাদের সকলেই কারাবন্দি বা হাজতি।

এসকল হাজতিরা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। বিপুল সংখ্যক এই বন্দি জামিনে মুক্তি পাওয়া চাপ কমেছে কারাগারে। এমনকি কারাগারে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দিদের নিয়ে যে বিপদের আশংকা করছিলেন তা থেকেও অনেকটা চিন্তামুক্ত থাকতে পেরেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, দেশের কারাগারগুলোতে সব সময়ই ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বন্দি অবস্থান করে। সেক্ষেত্রে করোনাকালে জামিনে এক লাখ হাজতি আসামির মুক্তি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনার প্রথম ঢেউ চিহ্নিত হয়। তখন দেশে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ভার্চুয়াল আদালত শুরুর প্রথম দফায় গত বছরের ১১ মে থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবস বিচার কার্যক্রম চলে। এ সময়ে সারা দেশে অধঃস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯ টি ফৌজদারি মামলায় জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করেন বিচারকরা। এর মধ্যে জামিন পান ৭২ হাজার ২২৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এরপর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়। কিন্তু এ সময়ে দেশের আদালতসূমহে সীমিত পরিসরে বিচার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৪ মে পর্যন্ত মোট ১৬ কার্যদিবসে সারাদেশে অধঃস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ৫১ হাজার ৮৮২ টি মামলায় জামিনের দরখাস্ত ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। এতে মোট ২৭ হাজার ৮৪৪ জন হাজতি অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ সময়ে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে মোট জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৬৭ জন। অর্থাৎ করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে দুই দফায় পরিচালিত ভার্চুয়াল আদালতে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২২১ টি ফৌজদারি মামলায় জামিনের আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে মোট এক লাখ ৭৩ জন হাজতি অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারামুক্তি পেয়েছেন।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। তখনই সরকার লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের রক্ষায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকার ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ জারি করে। এই অধ্যাদেশ জারির পরই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধঃস্তন আদালতে জামিন সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

জারি করা হয় সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্র্যাকটিস ডাইরেকশন। অধঃস্তন আদালতের পর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচার কার্যক্রম। গত দশ মাস ধরে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে বিচার কাজ চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। এরমধ্যে চলতি মাসে ঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যে আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে বিচার কাজ চলছে। উক্ত বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া বিভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আর হাইকোর্টের নয়টি বেঞ্চে চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলা ভার্চুয়াল আদালতে আইনজীবীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে চলছে কোর্টসমূহ। এতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীরা মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে বজায় থাকছে সামজিক ও শারীরিক দূরত্ব। থাকছে না করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x