হাইকোর্টকে আপিল বিভাগ

সংসদকে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের নির্দেশ নয়

আইনসভা তার নিজ পরিধিতে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
সংসদকে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের নির্দেশ নয়
হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, হাইকোর্ট সংসদকে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের কোনো নির্দেশ দিতে পারে না। সংবিধানের অধীন আইনসভা তার নিজস্ব পরিধিতে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কখন কোন বিষয়ে আইন প্রণীত হবে তা একান্তই আইনসভার বিবেচ্য বিষয়। তাই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন এক্তিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ আইনসভাকে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে না। ‘সরকার বনাম শাহ জামাল ও অন্যান্য’ মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আদালত বলেছে, হাইকোর্ট বিভাগ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনোভাবে আইনসভা বা নির্বাহী বিভাগের সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের এক্তিয়ারে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তাতে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতি।

রায়ে বলা হয়েছে, এই মামলায় একমাত্র প্রশ্ন হলো মুক্তিযোদ্ধাগণ যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, বয়স ৬১ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাদের চাকরিতে থাকার অধিকার আছে কি না? কিংবা বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদানে আইনগতভাবে কর্তৃত্ব সম্পন্ন কি না?

এ সম্পর্কে রায়ে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়স ছিল ৫৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত। এরপর আইন সংশোধন করে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের অবসর গ্রহণের বয়স ৫৯ বছর পর্যন্ত করা হয়েছিলো। যখন সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে সব সরকারি কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৯ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হলো, তখন চাকরিতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬০ বছর পর্যন্ত করা হয়েছিলো। আইনসভা প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে সেবা দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ৬১ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করেনি। এই মামলায় হাইকোর্ট তার রায়ে রিট আবেদনকারীগণের অবসর গ্রহণের বয়স ৬১ বছর পূর্ণ হওয়া অবধি বাড়ানোর জন্য রিট মামলার বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ জাতীয় অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি কেবলমাত্র আইনসভা দ্বারা সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে করা যেতে পারে।

আপিল বিভাগ রায়ে বলেছে, প্রকৃতপক্ষে হাইকোর্ট পরোক্ষভাবে আইনসভাকে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্ট এমন কোনো কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারে না, যার দ্বারা সরকারি কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি করা যায়। রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভার ক্ষমতাকে নিজের ক্ষমতা রূপে গ্রহণ করে তার দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্বপালনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের অবসর গ্রহণের বয়সের সীমা বৃদ্ধি করে হাইকোর্ট তার এক্তিয়ার অতিক্রম করেছে।

ইংরেজি ভাষায় লিখিত এ রায়টি ‘আমার ভাষা’ সফটওয়ার ব্যবহার করে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল রবিবার এ রায়সহ মোট পাঁচটি রায় অনুবাদ করে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x