স্ত্রী হত্যার ঘটনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রধান বিচারপতির

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির সাজা কমে যাবজ্জীবন
স্ত্রী হত্যার ঘটনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রধান বিচারপতির
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে প্রায় ২৭ বছর ধরে আছেন কারাগারে। এর মধ্যে ২২ বছর কনডেম সেলে রয়েছেন চট্টগ্রামের রিকশাচালক আনোয়ার। এছাড়া আরো দুটি হত্যা মামলায় পাঁচ আসামি এক যুগের বেশি সময় ধরে আছেন কনডেম সেলে।

গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তাদের দায়েরকৃত আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে কনডেম সেলে থাকায় এসব আসামিকে নরমাল সেলে এনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এদিকে দেশে স্ত্রী হত্যার ঘটনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের দেশে স্ত্রী হত্যার মামলায় ৮০/৯০ ভাগ সাজা হচ্ছে। অনেক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে। এরপরেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মিডিয়ায় দেখতে পেলাম। যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম চলবে

প্রায় দেড় যুগ আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের হাজী কফিল উদ্দিন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির সাজা কমিয়েছে আপিল বিভাগ। যাবজ্জীবন পাওয়া তিন আসামি হলেন ইকবাল হোসেন, কাজী জয়নাল ও জাকির হোসেন হাজী। এছাড়া এই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আরেক আসামি জামানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ১৯৯৫ সালে শ্যালিকা ধর্ষণের মামলায় রিকশাচালক আনোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। হাইকোর্ট ঐ রায় বহাল রাখে। আপিল শুনানিকালে দেখা যায়, এই আসামি প্রায় ২৭ বছর ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এদিকে আরেকটি হত্যা মামলায় নেছার উদ্দিন গাজীসহ দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। হাইকোর্ট ঐ সাজা বহাল রাখে। আপিল বিভাগ গতকাল সাজা হ্রাস করে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে। নেছারউদ্দিন গাজীসহ দুই আসামি ১৬ বছর ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x