বিচারপতির প্রশংসা করায় জাফরুল্লাহর রিট শুনেনি হাইকোর্ট

বিচারপতির প্রশংসা করায় জাফরুল্লাহর রিট শুনেনি হাইকোর্ট
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী [ছবি: সংগৃহীত]

হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করেছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ঢাকায় আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুণী ও সজ্জন বিচারপতি হলেন উনি।’ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত এই বক্তব্য দৃষ্টি এড়ায়নি হাইকোর্টের এই বিচারপতির।

ওই বিচারপতির নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দায়েরকৃত একটি রিট মামলার। কিন্তু রিট আবেদনের উপর শুনানি গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে আদালত। সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, যেহেতু জাফরুল্লাহ চৌধুরী আমাদের বেঞ্চের প্রশংসা করেছেন। তাই এই রিট মামলা অন্য বেঞ্চে শুনানি হওয়াই ভাল। যদি আমরা এই মামলার শুনানি গ্রহণ করি এবং একটি আদেশ দেই তাহলে তা নিয়ে অন্য কেউ বিরূপ মন্তব্য করতে পারেন। তাই রিট আবেদনটি অন্য বেঞ্চে শুনানি করেন। এরপরই হাইকোর্ট মামলাটি দৈনন্দিন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজের মামলার শুনানির জন্য আসে। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম মামলার বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সময় আদালত শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে।

পরে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজে ১১০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি ছিল। ২০২১ সালে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে ৫০ জন শিক্ষার্থীর বেশি ভর্তি করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। এরপর ১০ জন শিক্ষার্থী বাড়ানোর অনুমতি দেয়। অর্থাৎ ১১০ জনের স্থলে ৬০ জন ভর্তি করার অনুমতি মেলে। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সম্প্রতি একটি খুনের মামলায় দুই বিচারপতি বাংলায় রায় দিয়েছেন। তাদের অভিনন্দন। একইভাবে যখন পরী মণিকে হয়রানি করা হচ্ছিল, দুই বিচারপতি প্রতিকারের চেষ্টা করেছেন। আমাদের যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুণী ও সজ্জন বিচারপতি হলেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম।’

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x