ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬
৩৪ °সে


আমাদের আইন বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো: হাইকোর্ট

নারী-শিশু নির্যাতন আইন সংশোধনের নির্দেশ
আমাদের আইন বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো: হাইকোর্ট
হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিতে সরকারকে বলেছে হাইকোর্ট। ওই নির্দেশ মোতাবেক আপোসের বিধান রেখে ওই আইনের যৌতুক সংক্রান্ত ১১(গ) ধারা ছয় মাসের মধ্যে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং উইংকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বলেছে আদালত।

যৌতুক সংক্রান্ত এক মামলায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেন।

হাইকোর্ট বলেছে, আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এই রায় অনুসরন করে ১১(গ) ধারায় মামলার পক্ষগণকে আপোষের সুযোগ দেবেন। আদালত বলেন, আমাদের আইনগুলো বজ্র আটুনি ফস্কা গেরোর মত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আপোষের বিধান নেই। অথচ যৌতুকের মামলায় স্বামী ও স্ত্রী আপোস করতে চাচ্ছে। কিন্তু আপোসের বিধান না থাকায় সাজা হচ্ছে।

চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী লাভলী আক্তার স্বামী মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে মামলা করে। দু’জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে। এ মামলায় ২০১৪ সালের ১০ জুলাই আসামিকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু পলাতক থাকায় দুই বছর পর সাজার রায় বাতিল চেয়ে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন শফিকুল। হাইকোর্ট তাকে জামিন দেয় এবং সাজা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। রায় ঘোষণার দিন আড়াই মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হাইকোর্টে হাজির হন।

উভয়ে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের পর আদালত বলেন, ভবিষ্যতে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই তিন বছরের সাজা বাতিল করে দেয় আদালত।

আরো পড়ুন: ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের লুঙ্গি পরে ক্লাস, ঘুরাঘুরি

হাইকোর্ট বলেন, নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হতেই পারে। আর ঠুনকো অভিযোগে হাজার হাজার মামলা হচ্ছে। আইনে আপোষের বিধান থাকলে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা আসত না। মামলা জট রোধে আপোষের বিধান থাকা দরকার।

আদালতে বাদী-বিবাদীর পক্ষে হাসান মাহমুদ খান ও সামিউল হক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডিএজি ফরহাদ আহমেদ ও এএজি ইউসুুফ মাহমুদ মোর্শেদ শুনানি করেন।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন