নুসরাত হত্যা মামলা: রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

নুসরাত হত্যা মামলা: রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার আসামি মাকসুদ আলম ও রুহুল আমিন, নুসরাত জাহান রাফি (ইনসেটে)। ছবি: ইত্তেফাক

আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এজলাসে উঠেন এবং বিচারকার্য শুরু করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহম্মদ বাদী পক্ষে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আদালতে তুলে ধরেন।

পিপি হাফেজ আহম্মদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর নুসরাতের ভাই মাহ্মুদুল হাসান নোমান এবং নিহত নুসরাতের বান্ধবী নিশাত ও ফূর্তি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে হাজির হন। এই তিনজনের মধ্যে নুসরাতের ভাই তার বোনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্তারিত বিবরণ আদালতের বিচারকের সম্মুখে উপস্থাপন করেন। এই মামলায় বাদী পক্ষের মোট ৯৩ জন সাক্ষী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বাদী পক্ষের এক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

পরে ১৬ জন আসামির পক্ষে ২০ জন আইনজীবী নুসরাতের ভাই বাদী মাহ্মুদুল হাসান নোমানকে আসামিদের পক্ষের জেরা শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ১নং আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, শাহ্দাত হোসেন শামীম, নুরু উদ্দিন, জাবেদ, জোবায়ের, মোকছুদ আলম, রুহুল আমিন, ইমরান হোসেন মামুন, আবছার উদ্দিনসহ মোট ৯ জন আসামিদের পক্ষে এক এক করে ১২ জন আইনজীবী বাদীকে এক টানা জেরা করে যান।

বিকাল ৫টায় আদালতের বিচারক পরবর্তী ৩০ জুন (রবিবার) অবশিষ্ট ৭ আসামির পক্ষে বাদীকে জেরা করার জন্য ধার্য তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিকে মামলার অন্যতম আসামি সন্তান সম্ভাব্য কামরুন নাহার মনি ও শম্পাকে আদালতের আসামির কাঠগড়ায় বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়। এ সময় ১৬ চার্জশিটভূক্ত আসামির সকলেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ইউজিসি বরাদ্দ দিলেও বকেয়া বেতন দেয়নি বেরোবি

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন, অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদ্রাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে নুসরাত জাহান রাফি অবশেষে মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত