ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬
৩৪ °সে


মুক্তি পাচ্ছেন শিক্ষক আজমত আলী

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরেও জেলে পাঠানো অযৌক্তিক: আপিল বিভাগ

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরেও জেলে পাঠানো অযৌক্তিক: আপিল বিভাগ
ফাইল ছবি

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন স্কুল শিক্ষক আজমত আলী। যাবজ্জীবন সাজার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা তার রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তি করে তাকে মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আপিল বিভাগ বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর রেয়াত পেয়ে মুক্তি পাওয়ার পরেও পুনরায় তাকে কারাগারে রাখা অযৌক্তিক ও দুভার্গ্যজনক। তাই বিবাদীকে নির্দেশ দেওয়া হলো তাকে তাৎক্ষণিক মুক্তি প্রদান করতে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকার পাখিমারা গ্রামের বাসিন্দা আজমত আলী। ১৯৮৭ সালের পহেলা এপ্রিল জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়। খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে যাবজ্জীবন সাজার রায় বহাল রাখে। সেই থেকে দশ বছর ধরে কারাগারে আছেন তিনি।

কিন্তু ১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীদের সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের যাবজ্জীবন দণ্ডের মেয়াদ ২০ বছর বলে গণ্য হবে মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজমত আলী ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান। কিন্তু এই সাধারণ ক্ষমা পেয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি আপিল শুনানিকালে সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টিতে না আনায় তাকে দেয়া নিম্ন আদালতের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখে বলে জানান আইনজীবীরা। দশ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির আইনি সহায়তা পেয়ে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন আজমত আলী।

আরো পড়ুন: উল্লাপাড়ায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, নিহত ৯

কমিটির অনুরোধে রিভিউ পিটিশনের ওপর আজমতের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিনউদ্দিন। শুনানি নিয়ে গত ২৭ জুন রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয় আপিল বিভাগ। সোমবার ওই আদেশের অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে জামালপুর কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন লিগ্যাল এইড কমিটির অফিস সমন্বয়ক রিপন পৌল স্কু। তিনি বলেন, গরীববান্ধব এই সরকার অস্বচ্ছল ও অসহায় সকল মানুষের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করে যাবে লিগ্যাল এইড কমিটি।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন