বিদেশি বন্দিদের আইনি সহায়তা দেবে সরকার

প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন জিম আয়ার চিঠি দেওয়া হবে সব কারাগারে

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  দিদারুল আলম

হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

চলতি বছরের জুলাই মাসে গ্রেফতার হন নাইজেরিয়ান নাগরিক জিম আয়ার (৪০)। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও বেআইনিভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে পুলিশ। এসব মামলায় বর্তমানে সে নাটোর জেলা কারাগারে বন্দি। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সহায় সম্বলহীন এই বিদেশি নাগরিককে আইনি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অসচ্ছল ও পারিপার্শ্বিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিদেশি নাগরিক যারা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তাদের আইনি সহায়তা প্রদানের পথ উম্মুক্ত হলো। যদিও এতদিন শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা দরিদ্র ও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ তাদেরকে সরকার বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদান করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশি বন্দি নাগরিকরাও এখন থেকে আইনি সহায়তা পাবেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক জ্যেষ্ঠ জেলা জজ আমিনুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, যেসব বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অপরাধ সংঘটন করেছেন তাদের বিচার হচ্ছে এদেশের আইনে। ফলে তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে আইনগত সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া ছাড়া কাউকে সাজা দেওয়া যায় না। তাই আটক বিদেশি বন্দিরা যেন তাদের বক্তব্য আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে তুলে ধরতে পারেন সে লক্ষ্যেই এই আইনি সহায়তা প্রদান। তিনি বলেন, জিম আয়ার নামে নাইজেরিয়ান নাগরিককে আমরা প্রথম আইনগত সহায়তা দিচ্ছি। পরবর্তীকালে অন্য বিদেশি বন্দিরা যেন এই সুযোগ পান সেজন্য সকল কারাকর্তৃপক্ষ বরাবর একটি সার্কুলার পাঠানো হবে।

কারা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৭টি দেশের ৪৯৫ জন নাগরিক কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাত্ ২৭৪ জন হলেন মিয়ানমারের নাগরিক। ভারতের ১৪৯ জন। পাকিস্তানের ২৭, মালয়েশিয়ার সাত ও ক্যামেরুনের চার জন নাগরিক রয়েছেন। কারাগারে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ৫৭ জন। আর বিচারাধীন বন্দি রয়েছেন ৩৫২ জন। মুক্তি পাওয়া বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৬ জন। বন্দি বিদেশি নাগরিকরা মাদক, জাল টাকা, প্রতারণা, বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ, এটিএম বুথে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এদিকে জিম আয়ারকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারকে চিঠি দিয়েছে নাটোর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। ঐ চিঠিতে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৪০৬/৪১৯/৪২০ ধারায় এবং পাসপোর্ট আইনের ৩(৩) ধারায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় জিম আয়ার নাটোর কারাগারে আটক রয়েছেন। যেহেতু তিনি একজন বিদেশি নাগরিক সেহেতু তাকে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুসারে আইনি সহায়তা পাবে কিনা সেই বিষয়ে মতামত প্রয়োজন। পরবর্তীকালে নাটোরের লিগ্যাল এইড অফিসার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক জেলা জজ আমিনুল ইসলাম বরাবর চিঠি পাঠান। ঐ চিঠি পাওয়ার পরই আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, জিম আয়ারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। যেহেতু অসচ্ছল ও পারিপার্শ্বিক কারণে ঐ বিদেশি নাগরিক আইনজীবী নিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না সেহেতু তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: যুবদল থেকে যেভাবে যুবলীগে শামীম

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সদস্য অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না বলেন, সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এতে বিদেশি বন্দিরা তাদের বক্তব্য আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার সুযোগ পাবেন।

ইত্তেফাক/কেকে