ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২২ °সে


মাদক মামলার বিচারের অচলাবস্থা কাটল

মাদক মামলার বিচারের অচলাবস্থা কাটল
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

মাদকদ্রব্য নিয়স্ত্রণ আইন সংশোধন না হওয়ায় এ সংক্রান্ত মামলার বিচার ও জামিন শুনানি গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করেছিলো অধস্তন আদালতগুলো। ওই আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত অধস্তন আদালতগুলোকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৫(২) ধারা অনুসরনের নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদালত বলেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া এবং সেই পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে বিচারের ক্ষমতা না দেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামির জামিন ও বিচার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে আইনি জটিলতার। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার এ রায় দেয়।

রায়ে বলা হয়, বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত এই অচলাবস্থা লক্ষ্য করতে হচ্ছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে বারবার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হলেও স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আইনটি সংশোধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বিচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলার। এ ধরনের পরিস্থিতি অনভিপ্রেত ও হতাশাজনক। আমরা মনে করি বিচার কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা বা শূণ্যতা থাকতে পারে না। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা বা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে বিচারের ক্ষমতা দিয়ে আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সিআরপিসির ৫(২) ধারা প্রয়োগযোগ্য ও কার্যকারিতা পাবে।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের উদ্বেগ হলো নিদ্দিষ্ট করে করে কোনো আদালত না গঠিত হওয়ার ফলে অনেকেই আদালতে জামিনের দরখাস্ত করতে পারছেন না। অনেক আদালত মামলা শুনছে না। আদালতের এই রায়ের ফলে ওই অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটবে। তিনি বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টি আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। এ জন্যই দুটো মন্ত্রণালয় একটা সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিবে। যেহেতু সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি সেজন্য হাইকোর্ট আপাতত একটা সমাধান দিলো।

সুপ্রিম কোর্ট হতে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ টি জেলায় এক লাখ ৭০ হাজার ২৪২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত এপ্রিল মাস থেকে জুন পর্যন্ত ৭ হাজার ৮৭৯টি মামলা বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ওই আইনের ৪৪ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারবে। (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীন ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সংশ্লিষ্ট জেলার যে কোনো অতিরিক্ত জেলা জজ বা দায়রা জজকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। কিন্তু গত দশ মাসেও ট্রাইব্যুনাল স্থাপন হয়নি।

আরও পড়ুন: ই-গভর্নেন্স উন্নয়ন সূচকে ৫ বছরে বাংলাদেশকে সেরা পঞ্চাশে চান জয়

এ অবস্থায় গত ডিসেম্বর মাসে ইয়াবা ও হেরোইনসহ রাজধানীতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মাসুদুল হক মাসুদ নামে এক ব্যক্তি। নিম্ন আদালতে জামিন না মঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চান। গত মার্চ মাসে জামিন শুনানিকালে মাদক মামলার বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনে সরকারের পদক্ষেপ কি জানতে চায় হাইকোর্ট। গত ২৪ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, কয়েক মাস ধরেই শুনছি আইন সংশোধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কবে আইন সংশোধন হবে তার জন্য বসে না থেকে মাদক মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে ৫ (২) ধারা অনুযায়ী।

ইত্তেফাক/কেকে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন