ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
৩৩ °সে

করোনার চিকিত্সায় আশার আলো

করোনার চিকিত্সায় আশার আলো
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ইয়ান লিপকিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সায় নতুন পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন। তার মতে, নতুন ‘ব্লাড-প্লাজমা থেরাপি’ নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিত্সায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এ চিকিত্সাপদ্ধতিকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক দিন আগে নিউরোলজি ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ইয়ান লিপকিন ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত ‘লো ডবস টুনাইট’ নামের চ্যাট শোতে বলেন, ‘জানুয়ারির শেষ দিকে চীন গিয়েছিলাম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সার জন্য তারা আলাদা কী করছে, তা খতিয়ে দেখতে। এক সপ্তাহ আগে আমি এক বন্ধুর (চীনের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী) কাছ থেকে একটি গবেষণাপত্র পেয়েছি।

এতে বলা হয়, প্লাজমা থেরাপি নিয়ে ১০ জন রোগীর চিকিত্সা করেন তিনি। এ পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাস রোগে সেরে ওঠা ব্যক্তির কাছ থেকে অ্যান্টিবডি নেওয়া হয়। ঐ ১০ জনের ক্ষেত্রেই তা কাজ করেছিল। তারা এখন ভালো আছেন। এটা অবশ্য একেবারে নতুন কোনো পদ্ধতি নয়। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। এটা এ ক্ষেত্রেও কাজ করেছে।’

ইয়ান লিপকিন বলেন, ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা স্বেচ্ছাসেবীদের প্লাজমাদাতা হিসেবে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে বলা হবে। তিনি দাবি করেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এক জনের কাছ থেকে নেওয়া প্লাজমা দিয়ে তিন জন রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব। এটা রক্ত দান করার মতো প্রক্রিয়া নয় বরং অনেক সহজ। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনা রোগীর চিকিত্সায় এটাই কার্যকর সমাধান হতে চলেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্লাডপ্লাজমা দিয়ে করোনা ভাইরাস রোগীদের চিকিত্সাপদ্ধতি নিউ ইয়র্কে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্কের চিকিত্সকেরা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখবেন। যারা ইতিমধ্যে সেরে উঠেছেন তাদের রক্ত প্রচুর অ্যান্টিবডির উত্স হতে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যে প্রোটিন তৈরি করে, তা ভাইরাসকে আক্রমণ করতে পারে। যে রক্তে ঐ অ্যান্টিবডি থাকে তাকে বলা হয় ‘ক্যানভ্যালসেন্টস প্লাজমা’। এটি কয়েক দশক ধরেই ইবোলা, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সংক্রামক রোগে ব্যবহূত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড এল রেইচ বলেন, হাসপাতালে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে তারা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখবেন। তবে একেবারে রোগের চূড়ান্ত দশায় থাকা কারো ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করবেন না তারা। গত মঙ্গলবার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) পক্ষ থেকে প্লাজমা ব্যবহার করে জরুরি অবস্থায় পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ব্লাড সেন্টার প্লাজমা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও বিতরণে কাজ করবে।

ঘটনা পরিক্রমা : করোনা ভাইরাস

আরও
এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন