ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৫ °সে

ফ্রান্সে করোনার টাইম বোমা ছিলো একটি গির্জা

ফ্রান্সে করোনার টাইম বোমা ছিলো একটি গির্জা
ফ্রান্সের একটি গির্জা। ছবি: রয়টার্স

১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা। গির্জায় উপস্থিত শত শত মানুষ। মঞ্চ থেকে ভেসে আসলো গির্জার গায়কদের নেতার কণ্ঠ। ‘আমরা প্রভুকে উদযাপন করছি! আপনারা কি আজ রাতে আনন্দ উপভোগ করছেন?’

ফ্রান্সের ক্রিশ্চিয়ান ওপেন ডোর গির্জার শত শত মানুষ চিৎকার করে বললেন, ‘হ্যাঁ!’

জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ড সীমান্ত লাগোয়া শহর হলো ফ্রান্সের মুলহাউস। এক লাখের মানুষের শহর এটি। এখানে অবস্থিত সেই গির্জা। যেখানে সপ্তাহব্যাপী এক ধর্মীয় উপাসনায় অংশ নিতে হাজার হাজার মাইল দূর ভ্রমণ করে এসেছিলো মানুষ।

এই ধর্মীয় উপাসনায় কেউ একজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে আসেন।

স্থানীয় সরকার বলছে, ফ্রান্সের এই প্রার্থনা সভা থেকে কোভিড-১৯ এর সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে।

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে এই গির্জার সেই ধর্মীয় উপাসনা অনুষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। এই গির্জায় গিয়েছিলেন এমন দুই হাজার ৫শ’ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

গির্জার উপাসকদের অজান্তেই ভাইরাসটি এখন ছড়িয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার বুর্কিনা ফাঁসো থেকে কর্সিকার ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ, লাতিন আমেরিকার গায়ানা থেকে সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইউরোপের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারক কারখানায়ও।

ধর্মীয় ওই অনুষ্ঠানের কয়েক সপ্তাহ পরে, ফ্রান্সের সঙ্গে সীমানা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয় জার্মানি। গত ২৫ বছর ধরে চলছে এমন মুক্ত-আন্দোলন চুক্তিও স্থগিত করে দেয়।

জার্মানির ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানা দুই ব্যক্তি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, গির্জাটির সমাবেশে অংশ নেওয়াদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ক্রিশ্চিয়ান ওপেন ডোর গির্জার সঙ্গে যুক্ত এমন সদস্য এবং ভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা রয়টার্সকে যে গল্পটি বলেছেন, তাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের গতি এবং নাজুক পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

ফ্রান্সের ওই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনও করোনা ভাইরাস মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্বে রয়েছেন। আর এই রোগটি দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হয়েছে যেকোনো জায়গায়।

গির্জাটির প্রতিষ্ঠাতার প্রধান যাজক এবং নাতি যোনাথন পিটার্সমিটের বলেছেন, ‘সেই সময় আমরা কোভিড-১৯ কে খুব খুব দূরের মনে করেছিলাম।’

তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় পিটার্সমিটের বাবা স্যামুয়েলের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি রয়টার্স।

গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম করোনা রোগী পাওয়া যায় ২৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ওই গির্জায় আসা ও তাদের সংস্পর্শদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান শুরু করেন। কিন্তু তার আগেই গির্জায় আগতরা বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন।

গির্জার সরবরাহ করা একটি তালিকা ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করেছেন।

গির্জায় শিশুদের দেখাশোনা যারা করেন, তাদের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি বিশেষজ্ঞ মাইকেল ভার্নি বলেন, গির্জায় শিশুদের দেখাশোনা যারা করেন, ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভয় পেয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছি, আমাদের সামনে একটা (করোনা) টাইম বোমা ছিলো।’

সবশেষ খবর অনুযায়ী ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে দুই হাজারের বেশি। আর আক্রান্ত হয়েছে ৪০ হাজার।

রয়টার্স থেকে আংশিক অনুবাদ

ইত্তেফাক/জেডএইচ

ঘটনা পরিক্রমা : করোনা ভাইরাস

আরও
এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন