বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
৩২ °সে

কক্সবাজারে করোনায় একদিনে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারে করোনায় একদিনে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী

কক্সবাজারের করোনার উপসর্গ নিয়ে নারীসহ একদিনে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাত ও দুপুরের দিকে পৃথক সময়ে এদের মৃত্যু হয়। এদের মাঝে একজন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে, একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং বাকি দু'জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একদিনে মারা যাওয়া সবাই কক্সবাজার শহরেরই বাসিন্দা। এ নিয়ে কক্সবাজার জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হলো। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং স্থানীয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনার উপসর্গে মারা যাওয়ারা হলেন, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি মোহাম্মদ হাশেম (৮০), শহরের ২নং ওয়ার্ডের মধ্যম নুনিয়াছড়ার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ওরফে জয়নাল কোম্পানি(৫৬), শহরের পেশকার পাড়ার বাসিন্দা আবুল হাশেম (৫৫) ও শহরের এসএম পাড়ার শের আলীর স্ত্রী নুরুন্নাহার (৫৪)।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডা. শাহীন আবদুর রহমান জানান, কক্সবাজার শহরের এসএম পাড়ার শের আলীর স্ত্রী নুরুন্নাহার (৫৫) মঙ্গলবার (২৬ মে) মধ্যরাত ২টার দিকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান। তিনি কয়েকদিন আগে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আর কক্সবাজার শহরের আবুল হাশেম (৫৫) মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ২টার দিকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যে মারা গেছেন। তিনি উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে, এখনো রিপোর্ট হাতে আসেনি।

অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি মোহাম্মদ হাশেম মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৮ টার দিকে চট্টগ্রামের ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল ‘চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে’র আইসিইউতে মারা যান। বেশ কিছুদিন আগে তার করোনা ধরা পড়ার পর গত ২০ রমজান তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত মোহাম্মদ হাশেমের স্ত্রী, চিকিৎসকপুত্র ও পুত্রবধূও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, কক্সবাজার শহরের ২নং ওয়ার্ডের মধ্যম নুনিয়াছড়ার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ি জয়নাল আবেদীন ওরফে জয়নাল কোম্পানি ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) মধ্য রাতের দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। তিনি গত ২৩ মে করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়।

মঙ্গলবারের চারজনসহ কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত করোনার উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজার শহরে ৭ জন, চকরিয়া উপজেলায় একজন ও রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে এক বৃদ্ধা রয়েছেন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের তথ্য মতে, মঙ্গলবার ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৯ জনের করোনা 'পজিটিভ' এসেছে। এদের মাঝে ৩৬ জন জন নতুন রোগী আর অপর ৩ জন রোগীর ফলোআপ রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। নতুন শনাক্তের মাঝে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২০ জন, উখিয়া উপজেলার ৬ জন, চকরিয়া উপজেলার ৯ জন, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার একজন রয়েছেন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়ার মতে, অত্র কলেজের পিসিআর ল্যাবে গত ৫৫ দিনে ৫ হাজার ৫০৫ জন সন্দেহজনক রোগীর করোনা ভাইরাস টেষ্ট করা হয়। সেখানে ৪৯৬ জনের করোনা পজিটিভ আসে। পজিটিভ আসাদের মাঝে মহেশখালী ২৮ জন, টেকনাফের ১৫ জন, উখিয়ায় ৫২ জন, রামু ৭ জন, চকরিয়ায় ১৪১ জন, কক্সবাজার সদরে ১৪০ জন, কুতুবদিয়ায় ২ জন এবং পেকুয়ায় ৩৭ জন রয়েছে। এদের মাঝে ২৯ জন রোহিঙ্গাও রয়েছেন। বাকিরা বান্দরবান জেলা, চট্টগ্রামের সীতাকুঞ্জ, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বাসিন্দা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, নানা প্রতিরোধের পরও করোনা সবখানেই বিস্তার লাভ করেছে। কক্সবাজারে এখন বাড়ছে করোনার 'পজিটিভ' সংখ্যা। সাথে বাড়ানো হয়েছে চিকিৎসা কার্যক্রমও। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেক রোগী। করোনা থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র সহজ উপায় সচেতনতা। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে করোনার গতি ধরে রাখা সম্ভব।

ইত্তেফাক/এসি

ঘটনা পরিক্রমা : করোনা ভাইরাস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত