বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
৩৩ °সে

এক সপ্তাহে ৩০৪ মৃত্যু ৭৫ ভাগই হাসপাতালে

এক সপ্তাহে ৩০৪ মৃত্যু ৭৫ ভাগই হাসপাতালে
করোনা ভাইরাসের প্রতীকী ছবি।

দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু বেড়েছে, কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫৫ জন মারা গেছেন। সোমবারের চেয়ে গতকাল ১১ জন বেশি মারা গেছেন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মারা গেছেন ২ হাজার ১৫১ জন। মার্চ মাসে মৃতের সংখ্যা ছিল পাঁচ জন, এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে তে ৪৮২ জন এবং জুনে ১ হাজার ১৯৭ জন। আর জুলাইয়ের প্রথম সাত দিনেই মারা গেছেন ৩০৪ জন। দেশে মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশের বেশি হয়েছে জুনে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাসসংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ১৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ২৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সোমবারের চেয়ে গতকাল ১ হাজার ৭১০টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বুলেটিনে জানানো হয়, ঢাকার আহসানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব চালু হওয়ায় দেশে এখন ৭৪টি গবেষণাগারে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১-৭ জুলাই পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৩০৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২২৭ জন, বাসায় ৭৩ জন এবং চার জন হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন। অর্থাত্ চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে মারা যাওয়াদের প্রায় ৭৫ শতাংশ হাসপাতালে মারা গেছেন। প্রায় ২৪ শতাংশ মারা গেছেন বাসায় এবং এক শতাংশের কাছাকাছি মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১.৩৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫.৮৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪.৯৭ শতাংশ, খুলনায় ৪.৫১ শতাংশ, বরিশালে ৩.৬৩ শতাংশ, সিলেটে ৪.২৩ শতাংশ, রংপুরে ৩.০২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ২.৪২ শতাংশ। সংখ্যায় ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ১০৪ জন, চট্টগ্রামে ৫৫৭ জন, রাজশাহীতে ১০৭ জন, খুলনায় ৯৭, বরিশালে ৭৮, সিলেটে ৯১, রংপুরে ৬৫ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৯৪০ জন, ৫১-৬০ বছরের ৬২৪ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ৩২৩ জন, ৩১-৪০ বয়সি ১৫৫ জন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ৭১ জন, ১১-২০ বছরের মধ্যে ২৫ জন এবং ১০ বছরের নিচে ১৩ জন রয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত যে ২ হাজার ১৫১ জন করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭০৩ জন পুরুষ এবং ৪৪৮ জন নারী।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭৮ হাজার ১০২ জন। গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। তিনি বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৩৯ জনের এবং বাড়িতে থাকা অবস্থায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এসেছেন। এই ৫৫ জনের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ছয় জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ২১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৮ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

ইত্তেফাক/এসি

ঘটনা পরিক্রমা : করোনা ভাইরাস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত